এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস জানায়, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘জাতীয় নিরাপত্তা অগ্রাধিকার’। প্রেসিডেন্ট ও তার দল এ গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ব্যবহারের বিষয়টি সব সময়ই সর্বাধিনায়কের বিবেচনার আওতায় থাকে।
গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাসহ ‘বিভিন্ন বিকল্প’ নিয়ে আলোচনা করছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। খবর বিবিসি।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস জানায়, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘জাতীয় নিরাপত্তা অগ্রাধিকার’। প্রেসিডেন্ট ও তার দল পররাষ্ট্রনীতির এ গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ব্যবহারের বিষয়টি সব সময়ই সর্বাধিনায়কের বিবেচনার আওতায় থাকে।
১৯৭৯ সালে ড্রেনমার্ক থেকে আলাদা হয়ে স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে গ্রিনল্যান্ড । যদিও ভূখণ্ডটির প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি এখনো ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে। তবে দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি আছে। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মধ্যে কৌশলগত অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গ্রিনল্যান্ড গুরুত্বপূর্ণ। দ্বীপের বিরল খনিজ সম্পদও ওয়াশিংটনকে চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক। এছাড়া, আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ায় গ্রিনল্যান্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌরুটে পরিণত হচ্ছে।
ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেই গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন। আর গত বছরের মার্চে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ পেতে যুক্তরাষ্ট্র ‘যত দূর যেতে হয়, তত দূর যাবে’। অঞ্চলটির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ নতুন করে সামনে আসে ভেনিজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের পর। এ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে মাদক ও অস্ত্র পাচারের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করতে নিয়ে যায়।
এর পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড ‘অত্যন্ত প্রয়োজনীয়’। যদিও ডেনমার্ক দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আসছে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডে হামলা চালায়, তবে তা ন্যাটোর অবসান ডেকে আনবে।
এদিকে, রয়টার্সকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, গ্রিনল্যান্ড কেনা অথবা অঞ্চলটির সঙ্গে একটি কমপ্যাক্ট অব ফ্রি অ্যাসোসিয়েশন (মুক্ত সহযোগিতা চুক্তি) করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র মঙ্গলবার বিবিসিকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী, যা আমেরিকানদের পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের জনগণেরও উপকারে আসবে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের অভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বীরা আর্কটিক অঞ্চলে ক্রমেই সক্রিয় হচ্ছে। এটি যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও ন্যাটো মিত্রদের সবার জন্যই উদ্বেগের বিষয়।
গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে ইউরোপীয় নেতাদের অভিমত, যুক্তরাষ্ট্রের মতো তারাও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন, তবে এ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে ন্যাটো মিত্রদের ‘সমষ্টিগতভাবে’। একক কোনো দেশের উদ্যোগে নয়।
এ বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়ে ‘সম্মানজনক সংলাপের’ আহ্বান জানান গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান আন্তর্জাতিক আইন ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার নীতির ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত। এ বাস্তবতাকে সম্মান করেই সংলাপ হতে হবে।





