
পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশে থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে পাবত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের বিদ্রোহ করতে আহ্বান, জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চাওয়া, জাতিসংঘ মিশন স্থাপনের দাবী উত্থাপনসহ রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য দেয়ার প্রতিবাদে টিআইবি’র নির্বাহী ইফতেখারুজ্জমান, ঢাবি শিক্ষক খাইরুল ইসলাম চৌধুরী, নারী পক্ষের ও সরকারের নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরিন পারভিন হক, প্রথম আলোর সাংবাদিক সোহরাব হাসান, এএলআরডির নির্বাহী শামসুল হক ও নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী জাকির হোসেনকে গ্রেফতার ও তাদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
“সেভ বাংলাদেশ-সেভ সিএইচটি” নামের একটি প্লাটফর্ম আজ ৩০ নভেম্বর ২০২৫ রোববার বিকেল সাড়ে ৩’টায় শাহবাগ জাদুঘরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশটি শুরু করে। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা একটি মিছিল নিয়ে শাহবাগ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে গিয়ে শেষ করে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত ১৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় উল্লিখিত ব্যক্তিরা নানানরকম উস্কানীমূলক ও রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। যেমন, উক্ত আলোচনা সভায়-
“পাহাড়ে বাঙ্গালিদের বসবাস উপজাতিদের সংস্কৃতি ধ্বংস করার নামান্তর ও তাদের মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন”, সেনাবহিনী ১৯৭৬ থেকে ৯৭পর্যন্ত পাহাড়ে গণহত্যা চালিয়েছে, এখনো প্রতিনিয়ত হত্যা, ধর্ষণ ও নিপীড়ন চলছে মর্মে মন্তব্য ঢাবি শিক্ষক খাইরুল ইসলামের; “সারাদেশে আদিবাসী আন্দোল ছড়িয়ে দেয়ার হুমকী, সংবিধান সংস্কার কমিশন থেকে ‘বাঙ্গালি’ শব্দ বাদ দিতে পেরে ভাল লাগছে (আদিবাসী শব্দ অন্তর্ভুক্ত করতে পারলে খুশী হতাম), পাহাড়ে জাতিসংঘের একটি মিশন ও কমিশন দাবী করা” মর্মে মন্তব্য টিআইবি’র নির্বাহী ইফতেখারুজ্জামানের; “পাহাড়ে সামরিক শাসন চলছে, আটক (বিচ্ছিন্নতাবাদী) কেএনএফ সদস্যদের মুক্তি দিতে হবে” মর্মে মন্তব্য নারী পক্ষের শিরিন পারভিন হকের।
“পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি কেবল উপজাতিদের- এটা বাস্তবায়ন করতে হবে, পাহাড়ে জাতিসংঘর হস্তক্ষেপ কামনা করা মর্মে মন্তব্য এএলআরডির নির্বাহী শামসুল হকের। “উপজাতিদের বিদ্রোহ করার আহবান করা এবং সেনাবাহিনী, সরকার, বাঙ্গালি ও ব্যবসায়ী কর্তৃক উপজাতিদের ভূমি দখল করছে মর্মে মন্তব্য প্রথম আলোর সাংবাদিক সোহরাব হাসানের: “সারাদেশে উপজাতিদের আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে হবে এবং জাতিসংঘের হস্তক্ষেপে কামনা ও কমিশন গঠন করা মর্মে মন্তব্য নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী জাকির হোসেনের।
বক্তারা বলেন, উপরোক্ত বক্তব্য বাংলোদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য সরাসরি হুমকী, দেশের নিরাপত্তাবাহিনী, পাহাড়ে বসবাসরত বাঙ্গালিদের প্রতি চরম মিথ্যাচার, বিদেশে দেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন করা, পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল করা ও বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। অতএব, অন্তবর্তী সরকারকে স্বপ্রণোদিত হয়ে দ্রুত এদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী মামলা করতে হবে এবং এসব দেশদ্রোহীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে গ্রেপ্তার করে ফাঁসি দিতে হবে।
বক্তারা বলেন, ইহুদীবাদী ঔপনিবেশিক ব্রিটিশদের পরিকল্পনা ছিল মধ্যপ্রচ্যের মত দক্ষিণ এশিয়ার জাতিসংঘের সহযোগিতায় বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে আরেকটি ইহুদীবাদী ইজরাইল রাষ্ট্র গঠন করা। তাদের সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনের মত বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলাকে ভাগ করে ১৮৬০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম নামে নতুন জেলা তৈরী এবং ১৯০০ সালে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম বিধি-১৯০০’ নামে ইজরাইলী কায়দায় আশপাশের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চল থেকে অভিবাসী উপজাতি সংগ্রহ করে এক অদ্ভূত উপজাতীয় শাসন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করে। এর মাধ্যমে অভিবাসী উপজাতীদের বসবাস ও দখলদারিত্বে সহযোগিতা প্রদান এবং বাঙ্গালি জনগোষ্ঠীকে তাদের আদিনিবাস পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি থেকে জোর-জবরদস্তীমূলকভাবে উচ্ছেদ করে বাস্তুচ্যুত করা শুরু করে। কিন্তু তারা পার্বত্য চট্টগ্রামকে তখন ইজরাইল বানাতে ব্যর্থ হলেও তাদের পুরনো পরিকল্পিত কার্যক্রম থেমে নেই। জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনাও থেমে নেই। সেই পরিকল্পনারই অংশ হিসেবে উপরোক্ত ব্যক্তিরা এনজিও’র আড়ালে পার্বত্য চট্টগ্রামকে ব্রিটিশদের পরিকল্পিত ‘ইজরাইল’ বানাতে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং উল্লেখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরকারের নিকট দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা, গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবী জানাচ্ছি।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য প্রদান করেন- হেফাজতে ইসলাম এর যুগ্ম মহাসচিব মীর ইদ্রিস আলী নদভী, তাহরীকে খাতমে নুবুওয়্যাত বাংলাদেশ এর যুগ্ম মহাসচিব মুফতি সাওবান সাকিব, ঢাকা ১০ এর সংসদ সদস্য প্রার্থী শাহাদাত ফরাজী সাকিব, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস হুসাইন, ঢাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের সদ্য বিদায়ী সভাপতি রাকিবুল ইসলাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্প্রীতি জোটের আহবায়ক, ইঞ্জি, থোয়াই চিঙ মঙ শাক, বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন অনিক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও জকসুর জিএস প্রার্থী আহমাদ রেজা সহ আরো অনেকে।





