সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পেজ ও প্ল্যাটফর্মে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশের পরবর্তী সেনাপ্রধান হতে যাচ্ছেন বর্তমান পিএসও লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান। এই ধরনের দাবির বিস্তার লক্ষ্য করার পর বিষয়টি নিয়ে বাস্তবভিত্তিক ও দায়িত্বশীল আলোচনা জরুরি হয়ে উঠেছে।
প্রথমেই বর্তমান প্রেক্ষাপট পরিষ্কার করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান দায়িত্ব গ্রহণ করেন ২২ জুন ২০২৪ সালে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী একজন সেনাপ্রধান সাধারণত তিন বছরের মেয়াদে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সে হিসেবে তার বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৭ সালে। অর্থাৎ, পরবর্তী সেনাপ্রধান কে হবেন—সে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এখনো প্রায় দেড় থেকে দুই বছর বাকি। এই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে দেখলে, এখনই ‘পরবর্তী সেনাপ্রধান’ নিয়ে নিশ্চিত দাবি তোলার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই।
বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চারজন লেফটেন্যান্ট জেনারেল কর্মরত আছেন। এর মধ্যে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক অদূর ভবিষ্যতে অবসরে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। ফলে দায়িত্বে থাকবেন তিনজন—লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ মাইনুর রহমান।
সেনাবাহিনীর কাঠামো ও পেশাগত বাস্তবতা অনুযায়ী, যারা লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পৌঁছান, তারা প্রত্যেকেই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই এই স্তরে আসেন। ফলে এই পর্যায়ের প্রতিটি অফিসারই সেনাপ্রধান হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। এমন অবস্থায় একজনকে আগেভাগেই ‘পরবর্তী সেনাপ্রধান’ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রচার চালানো বাস্তবসম্মত নয় এবং তা প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারাও ব্যক্তিগত ও পেশাগতভাবে মানুষেরই অংশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট কর্মকর্তাকে নিয়ে আগাম ও ভিত্তিহীন প্রচারণা—তা ইতিবাচক হোক বা নেতিবাচক—বাহিনীর ভেতরে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব, পদায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সমীকরণ বদলায়। আজ যে বাস্তবতা, এক বা দুই বছর পরে তা একেবারেই ভিন্ন হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে সস্তা ভিউ বা রিচ পাওয়ার আশায় বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকা জরুরি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি সুসংগঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিক বাহিনী, যেখানে নেতৃত্ব নির্বাচন নির্দিষ্ট নিয়ম, অভিজ্ঞতা ও রাষ্ট্রীয় বিবেচনার ভিত্তিতেই হয়। দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে এই প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় গুজব এড়িয়ে চলাই জরুরি।





