চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের এক শিক্ষার্থী ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের উদ্ধার নির্দেশের ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজ হওয়ার আগে তরুণী হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করার আকুতি জানান এবং ভারতে পাচারের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন।
নিখোঁজ ওই তরুণীর বর্তমান নাম আয়েশা সিদ্দিকা জারা (২২)। ধর্মান্তরের আগে তার নাম ছিল তন্নী দে বিপন্না। তিনি চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী।
এ ঘটনায় একই কলেজের দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শহীদুল ইসলাম বাদী হয়ে জারার বাবা সঞ্জিত কুমার দে ও মা তপশী দেকে আসামি করে প্রথমে ঈদগাঁও থানায় অভিযোগ দেন। পরে কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ায় কক্সবাজার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
আদালত গত ৬ এপ্রিল ঈদগাঁও থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে আয়েশা সিদ্দিকা জারাকে উদ্ধার করে ১৬ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে নির্দেশের ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও তদন্ত কর্মকর্তার দৃশ্যমান কোনো উদ্ধার অভিযান দেখা যায়নি বলে দাবি বাদীর।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জারা প্রায় এক বছর আগে ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হন। পরে গত ১ মার্চ ২০২৬ সালে চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হলফনামার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
বাদীর অভিযোগ, ধর্মান্তরের বিষয়টি জানার পর তার পরিবার ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং নানা কৌশলে তাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে। গত ২৮ মার্চ ঈদগাঁওয়ের জাগিরপাড়া এলাকায় বান্ধবীর বাসা থেকে চট্টগ্রামে ফেরার পথে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।
মামলার বাদী মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “ভিকটিমকে গুম করার পরপরই জারা হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে আমাকে দ্রুত উদ্ধার করার আকুতি জানায়। সে জানায়, তাকে জোর করে আটকে রাখা হয়েছে এবং যেকোনো সময় ভারতে পাচার করতে পারে। এরপর থেকেই তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ পাওয়া যায়নি।”
তিনি আরও বলেন, “আদালত উদ্ধারের নির্দেশ দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। সময় যত যাচ্ছে, তার নিরাপত্তা নিয়ে ততই শঙ্কা বাড়ছে।”
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঈদগাঁও থানার এসআই অচিত কুমার রায় বলেন, “ভিকটিমকে উদ্ধারে চেষ্টা চলছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”
তবে বাদীর দাবি, পরিবারের সদস্যদের থানা হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পুরো ঘটনার রহস্য দ্রুত বেরিয়ে আসবে। এদিকে আদালতের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই জারাকে জীবিত ও নিরাপদে উদ্ধার করা যায় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে উক্ত কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাসহ এলাকাবাসীরা ।
- ছবি সংগৃহীত





