দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আমেরিকার সঙ্গে যে গোপন বাণিজ্য চুক্তি করা হয়েছে, তা বাতিলসহ ৩ দফা দাবিতে আজ ১০ এপ্রিল রাজধানীর মালিবাগ মোড়ে ফালইয়াফরাহু চত্বরে ‘ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতা’ একটি প্রতিবাদী জনসমাবেশের আয়োজন করেছে।
আমাদের আজকের সমাবেশের ৩টি দাবি:
১। আমেরিকার সাথে গোপন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে হবে
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আমেরিকার সঙ্গে করা সব গোপন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে হবে। জনগণকে না জানিয়ে এবং জনসম্মতি ছাড়া কোনো চুক্তি করা যাবে না। এই চুক্তির অজুহাতে আমেরিকা থেকে অতিরিক্ত গ্লুটেনযুক্ত গম, বিষাক্ত সয়াবিন, হারাম গোশত এবং ক্ষতিকর জিএমও (GMO) বীজ আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া বেশি দামে বোয়িং বিমান ও অস্ত্র কেনার চুক্তিও হয়েছে। এসব চুক্তি দেশের মানুষের স্বাস্থ্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, কৃষি, কৃষক ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের জন্য ক্ষতিকর। এগুলো জনগণের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছু নয়। একইভাবে, উচ্চমূল্যে মার্কিন অস্ত্র ও উড়োজাহাজ কেনার মাধ্যমে তাদের যুদ্ধনীতি ও কর্মকাণ্ডে পরোক্ষ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে—এটিও বন্ধ করতে হবে।
জাতীয় স্বার্থ ও দ্বীনি মূল্যবোধের বিরুদ্ধে যায়—এমন সব চুক্তি বাতিল করতে হবে। অন্য দেশ যেমন মালয়েশিয়া আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে, তেমনি বাংলাদেশকেও এই গোপন চুক্তি বাতিল করতে হবে। জনগণের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের এমন চুক্তি করার কোনো অধিকার নেই।
২। অন্তর্বর্তী সরকারের করা জুলাই সনদ, গণভোট ও অধ্যাদেশ বাতিল করতে হবে
ইউনুস সরকারের তথাকথিত জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের তৈরি জুলাই সনদ বাতিল করতে হবে।
এই সনদে ইসলামের কোনো প্রতিফলন নেই, বরং অনেক বিষয় ইসলামবিরোধী। এছাড়া ৩০টি বিষয়ের ওপর একসাথে গণভোট নেওয়া হয়েছে, অথচ মানুষ এসব বিষয় সম্পর্কে ঠিকমতো জানেই না। একসাথে এতগুলো বিষয়ে ভোট নেওয়া মানুষের সাথে প্রতারণার সামিল।
এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের মতামত ছাড়াই ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছে, যা তাদের করার অধিকার ছিল না। এসব বিষয়ে জনগণের মতামত নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
৩। মুসলিম বিশ্বে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে, অমুসলিমদের সাথে ঐক্য করা যাবেনা
সরকারকে আমেরিকা-ভারতসহ অন্যান্য প্রভাব থেকে বের হয়ে মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। মহান আল্লাহ পাক মুসলমানদের একতাবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে
কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে হবে। এতে দেশের অর্থনীতি, সামরিক শক্তি ও সার্বিক উন্নয়ন দ্রুত বাড়বে। দেশের বন্দর, খনি বা গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বিদেশিদের হাতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে ইরান, তুরস্ক, পাকিস্তানের মতো উন্নত মুসলিম দেশগুলোর সহযোগিতা নিতে হবে। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে নতুন জোট গড়ে তোলা, নিজেদের মুদ্রা চালু করা এবং ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানো দরকার। আমাদের মধ্যে শক্তিশালী সামরিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে। প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভর হতে নিজস্ব অস্ত্র তৈরি করতে হবে, যাতে বাইরে থেকে বেশি দামে কিনতে না হয়। মুসলিমদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তি উন্নত করতে হবে। সাবমেরিন ক্যাবলসহ নিজস্ব নেটওয়ার্ক তৈরি করতে হবে। সবক্ষেত্রে কাফিরদের ওপর নির্ভর না করে মুসলিম দেশগুলোর স্বনির্ভর হতে হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
সমাবেশে উপস্থিত থেকে আলোচনা করেন- ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার আহবায়ক মুহম্মদ আরিফ আল খবীর, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাজী আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহম্মদ ফরহাদ আলম প্রমুখ। বিশেষ দোয়া ও প্রতিবাদ মিছিলের মাধ্যমে সমাবেশের কর্মসূচি সমাপ্ত হয়। দোয়ায় মুসলিম উম্মাহর হেফাজত, দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং সকল অপশক্তির ধ্বংস কামনা করা হয়।
- ছবি সংগৃহীত





