অবাংলাদেশী মা”র্কিন নাগরিক আলী রিয়াজ জুলাই সনদ থেকে আমাদের ‘বাঙালী’ জাতিসত্তার পরিচয় মুছে দিয়েছেন;
বাংলাদেশ সংবিধানের ধারা ৬(২) এ বলা হয়েছে- “বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে বাঙালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হইবেন।”
কিন্তু অবাংলাদেশী তথা মা”র্কিন নাগরিক আলী রিয়াজ সাহেব জুলাই সনদ থেকে আমাদের জাতিগত ‘বাঙালী’ পরিচয় বাদ দিয়ে শুধু নাগরিকত্ব হিসেবে বাংলাদেশি পরিচয় রাখতে সুপারিশ করেছে। তাও আবার ভুল বানানে। শুদ্ধ বানানটি হবে ‘বাংলাদেশী’।
যেই দেশের নাম, ইতিহাস, ঐতিহ্য, স্বাধীনতা সংগ্রামে হাজার বছরের বাঙালী জাতির সাথে জড়িয়ে আছে, জুলাই সনদ থেকে সেই ‘বাঙালী’ পরিচয় বাদ দেয়া হলো কীসের ভিত্তিতে এবং কোন দলগুলো এখানে নোট অব ডিসেন্ট (অসম্মতি) জানিয়েছে সেটিও জানার সুযোগ রাখা হয়নি।
আমাদের প্রস্তাবনা হচ্ছে- জাতি হিসেবে ‘বাঙালী’ ও জাতীয়তা ‘বাংলাদেশী’ এই উভয় শব্দই সংবিধানে থাকতে হবে। এক্ষেত্রে জাতি হিসেবে বাঙালী ও বাংলাদেশের অন্যান্য সকল ক্ষুদ্র জাতিসত্তা সবাই ‘বাংলাদেশী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে মর্মে স্থাপিত হতে পারে।
উল্লেখ্য, অনেকে বাঙালী শব্দ ও পরিচয়কে কলকাতা থেকে আগত হি“ন্দুয়ানী পরিচয় মনে করেন, কেউ বা আবার বাঙালী পরিচয়কে আওয়ামী সম্পত্তি মনে করেন। অথচ এমন ধারণা ভুল।
বঙ্গ, বাংলা ও বাঙ্গালী শব্দ ও এর নৃতাত্ত্বিক পরিচয় এসেছে আল্লাহর নবী হযরত নূহ আলাইহিস সালামের বংশধর হযরত বঙ্গ আলাইহিস সালাম থেকে। হযরত বঙ্গ ছিলেন হযরত নূহ আলাইহিস সালামের নাতির ছেলে তথা প্রপৌত্র। (সূত্র: রিয়াজ-উস-সালাতীন; এই বইটি ১৭৬৮-১৭৮৮ সালে গোলাম হোসেন সলিম রচিত ভারত বর্ষের ইতিহাসের প্রথম প্রামাণ্য গ্রণ্থ)
ব্রিটিশ আমলের শুরুর দিকে মুসলমান ছাড়া অন্য কেউ নিজেকে ‘বাঙালী’ হিসেবে পরিচয় দিতো না। তখন ‘বাঙালী’ বলতে মুসলমানকেই বুঝানো হতো। ব্রিটিশরা ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের মাধ্যমে বাঙালী পরিচয়নের বয়ান সম্পুর্ণ পাল্টে দেয়, যেটি এখনো কলকাতাসহ বাংলাদেশে প্রচলিত।
উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বাঙালীদের বের করে দেয়ার বি চ্ছি ন্ন তা বাদী পরিকল্পনার সাথে অবাংলাদেশী মা”র্কিন নাগরিক আলী রিয়াজের সম্পৃক্ততারও অভিযোগ শোনা যায়! পাহাড়ে বসবাসরত বাঙালী বিদ্বেষের কারণে সংবিধান থেকে তিনি বাঙালীর পরিচয় তুলে দিতে চেয়েছেন কিনা জনমনে সেই প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে!
উল্লেখ্য, আমরা জুলাই সনদের বিরুদ্ধে নই। জুলাই সনদের কিছু প্রস্তাবনার বিপক্ষে মাত্র। আমরা জুলাই সনদের বেশিরভাগ ধারার পক্ষে, কিছু ধারার বিপক্ষে। আবার নতুন কিছু ধারা যুক্ত করার পক্ষে।
আমরা মনে করি- জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন দেশের শাসন কাঠামো দুর্বল করে দিতে পারে, যার মাধ্যমে দেশে বৈদেশিক হস্তক্ষেপ বাড়বে বলে আমরা মনে করছি! তাছাড়া জুলাই গণভোটের প্রসিডিউর কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট তথা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল!
লেখক: জিয়াউল হক,
আহ্বায়ক স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি





