ঐতিহাসিক ১৯ রমাদ্বান উপলক্ষে “বঙ্গ ও বাংলা ভাষার আজাদী দিবস” স্মরণে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে সক্রিয় শিক্ষার্থীদের সংগঠন স্টুডেন্ট ফর সভারেন্টি। সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তিন নেতার মাজার সংলগ্ন হাজী শাহবাজ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সংগঠক, গবেষক, রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মী এবং সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্টুডেন্ট ফর সভারেন্টির প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক মোঃ জিয়াউল হক। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাষা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে জাগ্রত করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। ইতিহাসের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, মাত্র দেড়শ বছরের শাসনামলে সেন রাজারা বাংলা ভাষাকে যে সংকটাপন্ন অবস্থায় নিয়ে গিয়েছিল, তা থেকে বাংলার জনগণকে মুক্তির পথ দেখায় গৌড় বিজয়ের ঐতিহাসিক ঘটনা।
মোঃ জিয়াউল হক বলেন, পাল ও সেন শাসনের অবসানের মধ্য দিয়েই বাংলার মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতির স্বাধীন বিকাশের পথ উন্মুক্ত হয়। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকেই বাংলা ভাষা তার স্বকীয় পরিচয় ফিরে পায় এবং দীর্ঘ ঐতিহাসিক অভিযাত্রায় সেই ভাষার ভিত্তিতেই জন্ম নেয় বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়। তিনি আরও বলেন, বাংলা ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক অস্তিত্বের ভিত্তি।
তিনি ঘোষণা দেন, ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি এর গৌড় বিজয়ের স্মৃতিবাহী ১৯ রমজান তারিখটিকে “বঙ্গ ও বাংলা ভাষার আজাদী দিবস” হিসেবে স্মরণ ও উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে স্টুডেন্ট ফর সভারেন্টি। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে বাংলা ভাষায় হারিয়ে যেতে বসা শব্দ, প্রবাদ-প্রবচন ও লোকজ ভাষাভান্ডার পুনরুদ্ধারে শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। বাংলা ভাষার সমৃদ্ধ ভান্ডারকে পুনরুজ্জীবিত করতে গবেষণা, নথিভুক্তকরণ এবং সামাজিক উদ্যোগ জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি এবং এ কাজে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য, মূল্যবোধ ও সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা, ইতিহাস ও জাতিগত পরিচয়ের প্রশ্নকে শক্তভাবে তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মত দেন তারা।
আলোচনা সভা শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে ইফতার মাহফিলের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।





