সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের একটি ভিডিও ঘিরে তীব্র সমালোচনা ও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, দিল্লির কাছে গাজিয়াবাদে নাগরিকত্ব যাচাই অভিযানের সময় এক হিন্দুত্ববাদী পুলিশ সদস্য এক ব্যক্তির পিঠে মোবাইল ফোন ঠেকিয়ে তা ‘স্ক্যান’ করছেন। দাবি করা হচ্ছে, এই বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমেই জানা যাবে ওই ব্যক্তির আদি নিবাস কোথায়।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে পুলিশি অভিযানের একটি ভিডিও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। এই ভিডিওতে দেখা গেছে, একজন পুলিশ কর্মকর্তা মোবাইল ফোন দিয়ে এক ব্যক্তির পিঠ ‘স্ক্যান’ করছেন। পুলিশের দাবি ছিল, এই ফোনের মাধ্যমেই শনাক্ত করা যাবে কে বাংলাদেশী।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাওয়া ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছে এনডিটিভি। ওই ব্যক্তির ভ্রাতৃবধূ রোশনি খাতুন জানান, গত ২৩ ডিসেম্বর স্থানীয় থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাঁদের এলাকায় আসে। সঙ্গে ছিল একটি প্রিজন ভ্যান।
রোশনি বলেন, “পুলিশ আমাদের পরিচয়পত্র দেখাতে বলে। আমরা আমাদের আধার কার্ড এবং অন্যান্য বৈধ নথিপত্র দেখাই।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ সদস্যরা রসিকতা করে দাবি করেছিলেন যে তাঁরা এমন একটি যন্ত্র এনেছেন যা দিয়ে কে বাংলাদেশি তা শনাক্ত করা সম্ভব।
রোশনির কথায়, “আসলে কোনো যন্ত্র ছিল না। তারা হাতে মোবাইল ফোন নিয়ে আমার ভাসুরের পিঠে স্পর্শ করে। তবে তারা আমাদের সাথে কোনো দুর্ব্যবহার বা হুমকি দেয়নি।”
ওই পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য রাবিলা জানান, পুলিশ তাঁদের বলেছিল পিঠের ওপর মোবাইল দিয়ে স্ক্যান করলেই ধরা পড়বে কেউ বাংলাদেশি কি না। তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁদের পরিবার ১৯৮৬ সাল থেকে ওই এলাকায় বসবাস করছে এবং তাঁদের আদি বাড়ি বিহারের আরারিয়া জেলায়। তাঁদের কাছে সমস্ত বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে দুইবার এ ধরনের তল্লাশি চালানো হয়েছে।
সুপারমার্কেটের বারকোড স্ক্যানারের মতো মোবাইল দিয়ে মানুষ ‘স্ক্যান’ করার এই অদ্ভুত ও অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় উঠেছে। নেটিজেনদের অনেকেই এই ঘটনাকে হীনম্মন্যতা ও অপমানজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন। এমন কোনো প্রযুক্তি আদৌ আছে কি না, তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন এবং উত্তরপ্রদেশ পুলিশের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছেন।
গাজিয়াবাদ পুলিশ এখন পর্যন্ত এই ভাইরাল ভিডিও বা তাদের কর্মীদের এই ধরনের আচরণ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।





