সিরিয়ার অভ‍্যন্তরীন অত‍্যান্ত জটিল পরিস্থিতির মধ‍্যেই যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে Operation Hawkeye Strike নামে একটি সিরিজ বিমান হামলার মিশন শুরু করেছে বলা যায়। এর শেষ কখন তা স্পষ্ট করে জানায়নি।

এর আগে গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানায় আইএস জঙ্গিদের নির্মূলে তারা ১০০টির বেশি প্রিশিসন স্টাইক বোমা বা মিসাইল দিয়ে ৭০টি টার্গেটে হামলা চালিয়েছে।

তবে গত সপ্তাহে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের মদদপুষ্ট এসডিএফ বাহিনীর মধ‍্যে নতুন করে আলেপ্পো প্রদেশ জুড়ে তুমুল লড়াই শুরু হয় এবং এই অবস্থায় তুরস্ক যখন সিরিয়ায় কুর্দি বিদ্রোহীদের দমনে পুনরায় প্রবেশ করে তখন যুক্তরাষ্ট্র জানায় যে গতকাল শনিবার তারা সিরিয়ার ৩৫টি টার্গেটে আইএস জঙ্গিদের লক্ষ‍্য করে হামলা চালিয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয় যুক্তরাষ্ট্র তাদের F-15 Strike Eagle, A-10 যুদ্ধবিমান, AC-130 Ghostrider গানশিপ এবং MQ-9 ড্রোন ও জর্ডানের F-16 যুদ্ধবিমান মিলে সিরিয়ার ৩৫টি লক্ষ‍্যবস্তুতে ৯০টি প্রিশিসন বোমা বা মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে।

গত সপ্তাহে উল্লেখ করা হয় সিরিয়াতে এখনো ৫০০০ এর বেশি আইএস জঙ্গি সক্রিয় রয়েছে এবং তারাই মূলত গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ২ জন সেনা কে হত‍্যা করে।

যার প্রতিশোধ নিতেই সিরিয়াতে নতুন করে এই Operation Hawkeye Strike শুরু করে।

এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে সিরিয়াতে হঠাৎ তথাকথিত জঙ্গি নাটক সাজিয়ে হামলার দরকার কি ছিল বা সিরিয়াতে যেহেতু একটি জটিল অবস্থা বিরাজ করছে তাহলে নতুন করে সিরিজ আকারে বিমান হামলা কেন?

এর বেশ কয়েকটি কারন হতে পারে :- 

১) সিরিয়ার রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে আসাদ সরকারের ভিত্তি নাড়িয়ে দেয়া থেকে শুরু করে সিরিয়া থেকে লাখ লাখ ব‍্যারেল অপরিশোধিত তেল সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের সাথে সরাসরি জড়িত ছিল কুর্দি সংখ‍্যাগরিষ্ঠ এই এই Syrian Democratic Force (SDF).

কাগজে কলমে তুরস্কের সাথে দীর্ঘ ৪০ বছরের সশস্ত্র লড়াইয়ের সমাপ্তি ঘোষনা করলেও কুর্দিরা যুক্তরাষ্ট্রের জন‍্য এক বিশাল আশীর্বাদ।

কেননা আসাদ সরকারের তথাকথিত বিরোধীতা ও তথাকথিত এইসব বিদ্রোহীরা একদিকে যখন আসাদ সরকারের পতনের জন‍্য অস্ত্র হাতে নিয়েছিল ঠিক তখন এরাই সিরিয়ার খনিজ সম্পদ ও তেল যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিয়েছিল।

ঠিক এভাবেই সিরিয়ার তেলের খনির বেশিরভাগ এই এসডিএফের হাত ধরে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যায়।

বিনিময়ে এসডিএফ পায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিপুল পরিমান আধুনিক অস্ত্র ও উন্নত জীবন যাপনের নিশ্চয়তা।

তা স্বাভাবিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের আশীর্বাদের জায়গা থেকে সিরিয়ার বতর্মান সরকার কে বার্তা দিতেই নতুন করে বিমান হামলা চালাচ্ছে।

২) সিরিয়াতে যাতে তুরস্কের একক আধিপত‍্য ধরে রাখতে না পারে বা তুরস্কের কারনে যদি সিরিয়ায় কুর্দিরা আক্রান্ত হয় তাহলে ভবিষ্যতে হয়তো তুরস্ক কে থামাতে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে আসবে।

আর সিরিয়াতে তুরস্কের যদি আধিপত্য এককভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ও ইসরাইলের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে এটাই স্বাভাবিক।

মূলত এই কারনেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কখনোই চাইবেনা সিরিয়াতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসুক।

সিরিয়া স্থিতিশীল থাকা মানে ইসরাইলের ভবিষ্যতের হুমকি।

৩) মুখে যতো যাই বলুক সিরিয়া কে বশে রাখতে নিজস্ব অঞ্চল ভিত্তিক সশস্ত্র লড়াই অব‍্যাহত রাখা জরুরি যেটা আসাদ সরকারের সময় না পারলেও বতর্মান সিরিয়ার জোলানির নেতৃত্বাধীন দুর্বল সরকারের দুর্বল ব‍্যবস্থাপনার সুযোগ নিয়ে সিরিয়ার দক্ষিনাঞ্চলের একটি বড় অংশ নিজেদের দেখলে নিয়েছে ইসরাইল।

ভবিষ্যতে নিজেদের নিরাপত্তা ইস‍্যুর কথা বলে এই দখলদারিত্বের পরিসর আরো বৃদ্ধি করা হবে।

কেননা প্রথমে গোলান হাইট এরপর দারা প্রদেশ আর এখন আলেপ্পো নতুন করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে প্রদেশটি নিজেদের নিয়ন্ত্রনে নেয়া এরপর হয়তো ইদলিবের দিকে যাবে আর এভাবেই মূলত স্বাধীন সার্বভৌম সিরিয়া কে দ্বিখন্ডিত করে ভোগ দখল করে খাবে ইসরাইল।

ইতিমধ্যে আলেপ্পো ছেড়েছে সিরিয়ার অসংখ‍্য মানুষ কিন্তু সংঘর্ষ এখনো থামেনি।

এতকিছুর পরেও সিরিয়াতে জোলানি নাকি আশীর্বাদ এবং সিরিয়াতে গনতন্ত্র পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতেছেন।

আসলেই সিরিয়াতে এখন প্রচুর গনতন্ত্র বর্ষিত হচ্ছে আকাশ থেকে।

.

  • এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান। সংগৃহীত ছবি