পবিত্র রমজান মাসে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার দাবিতে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মালিবাগ মোড়ে আয়োজিত এই সমাবেশ থেকে তারা সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, পবিত্র রমজান মাস তাকওয়া অর্জনের মাস। এ সময়ে সিয়াম পালন, তারাবির নামাজসহ ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে ধর্মীয় চর্চা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে রোজা ও অন্যান্য ইবাদত পালনের সুযোগ নিশ্চিত করতে রমজান মাসে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা প্রয়োজন।

সমাবেশে অংশগ্রহণকারী অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল—

“রোজায় স্কুল বন্ধ করো, শিক্ষার্থীদের রোজা রাখতে দাও”,

“রোজায় কলেজ বন্ধ হলেও স্কুল খোলা কেন?”,

“রোজায় ক্লাস চালু রাখা শিক্ষার্থীদের ধর্মচর্চা ব্যাহত করছে”।

বক্তারা আরও বলেন, একটি শিশু কাঁচা মাটির মতো—শৈশবকালেই তার নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু রমজান মাসে নিয়মিত ক্লাস চালু থাকলে শিক্ষার্থীরা রোজা, তারাবি ও অন্যান্য ইবাদত সঠিকভাবে পালন করতে পারে না। এতে তাদের ধর্মীয় ও নৈতিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ৯৮ শতাংশ মুসলমান। সে হিসেবে পবিত্র রমজানে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ছুটি পাওয়া তাদের সাংবিধানিক অধিকার। তারা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক দিবসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হলেও মুসলমানদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় মাসে ছুটি না দেওয়া বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত।

বক্তারা আরও বলেন, অতীতে রমজান মাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালে রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখা হলেও ২০২৬ সালে পুনরায় ক্লাস চালু করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

তারা অভিযোগ করে বলেন, রমজান মাসে কলেজ বন্ধ থাকলেও শিশুদের স্কুল খোলা রাখা হয়েছে, যা কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়। বরং শিশুদের জন্যই রমজানে ছুটি দেওয়া অধিক প্রয়োজন। একই সঙ্গে রমজান শুরুর অন্তত সাত দিন আগে স্কুল বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার দাবিও জানান তারা।

সমাবেশ থেকে বক্তারা অবিলম্বে পবিত্র রমজানে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণার আহ্বান জানান। অন্যথায় দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার কঠোর হুঁশিয়ারিও দেন তারা।