মোঃ মনোয়ার হোসেন, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সাংবাদিক পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি ব্যবসায়ী পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি, মিথ্যা মামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারটির দাবি, পরিকল্পিতভাবে জমি ও অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) দুপুর ১২টায় নগরীর অনুরাগ কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী আরমিনা আক্তার।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তাঁর স্বামী আবুল কালাম একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সদস্য, সোনা মসজিদ স্থলবন্দরকেন্দ্রিক আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং ভাটা ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত।

আরমিনা আক্তারের অভিযোগ, তাঁর চাচা শ্বশুর সাইফুল ইসলাম নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন। অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম গোদাগাড়ী উপজেলার মহিষালবাড়ি সাগরপাড়া গ্রামের মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, সাইফুল ইসলামের বাড়ির সংলগ্ন চার কাঠা জমি আইনগতভাবে ক্রয় করেন আবুল কালাম। তবে জমি বুঝে নেওয়ার সময় বিরোধের সূত্রপাত হয়। এ সময় আবুল কালামের ওপর শারীরিক হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

পরবর্তীতে ২০২২ সালের ৯ ডিসেম্বরের একটি ঘটনার সূত্র ধরে ২১ ডিসেম্বর গোদাগাড়ী থানায় আবুল কালামের বিরুদ্ধে একটি মামলা (মামলা নং–৩১/৬৩৯) দায়ের করা হয়, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক বলে দাবি পরিবারের।

এছাড়া একই দিনে আবুল কালামের মাকেও মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর সাইফুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী বেলীর বিরুদ্ধে একটি মামলা (সি আর নং–০১/২০২৩) দায়ের করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, মামলাগুলো চলমান থাকা অবস্থায় সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তার করে একের পর এক মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ, পুলিশ দিয়ে ভয় দেখানো, অর্থ দাবি এবং মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, থানায় সহায়তা চাইতে গেলে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। উল্টো হুমকি ও চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি থানার গেটেই সাংবাদিক পরিচয়ে প্রকাশ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা জানান।

তাদের দাবি, জমি ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই ধারাবাহিক হয়রানি চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে আত্মীয়স্বজনকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে পারিবারিক অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টাও করা হচ্ছে।

বর্তমানে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে উল্লেখ করে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী সাইফুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি কখনো তার বিরুদ্ধে কোনো সংবাদ প্রকাশ করিনি। সে একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে আমার কাছে অনেক তথ্য রয়েছে।”

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান বাশির বলেন, “এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ আমরা এখনো পাইনি। ভুক্তভোগী চাইলে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে পারেন। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

  • ছবি সংগৃহীত