আদালতের শুনানিতে তিনি মাদক পাচারসহ তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দোভাষীর মাধ্যমে মাদুরো বলেন, ‘আমি নির্দোষ। আমি একজন সজ্জন ব্যক্তি এবং আমিই এখনো আমার দেশের প্রেসিডেন্ট।‘

মার্কিন অভিযানে আটক হওয়ার পর সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয় ভেনিজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে। আদালতের শুনানিতে তিনি মাদক পাচারসহ তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দোভাষীর মাধ্যমে মাদুরো বলেন, ‘আমি নির্দোষ। আমি একজন সজ্জন ব্যক্তি এবং আমিই এখনো আমার দেশের প্রেসিডেন্ট।‘ খবর রয়টার্স।

ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতের বিচারক আলভিন হেলারস্টাইন মাদুরোর বক্তব্যে বাধা দিয়ে তাকে শান্ত হওয়ার নির্দেশ দেন। মাদুরোর পাশাপাশি তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। আদালত আগামী ১৭ মার্চ পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করেছেন।

আদালতের বাইরে দুই পক্ষের শত শত বিক্ষোভকারী জমায়েত হয়েছিল। একপক্ষ মাদুরোর মুক্তির দাবিতে এবং অন্যপক্ষ তার বিচারের সমর্থনে স্লোগান দিতে থাকে। শুনানির সময় ৬৩ বছর বয়সী মাদুরোকে কমলা ও বেজ রঙের কয়েদির পোশাকে দেখা যায়। ব্রুকলিনের একটি ডিটেনশন সেন্টার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হেলিকপ্টারে করে তাকে ম্যানহাটনের আদালতে নিয়ে আসা হয়।

এদিকে, মাদুরোর অনুপস্থিতিতে কারাকাসে তার দীর্ঘদিনের মিত্র ও ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি মাদুরোর প্রতি সমর্থন জানালেও মার্কিন অভিযানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের কোনো ইঙ্গিত দেননি। বরং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, রদ্রিগেজ বর্তমানে দেশটিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবচেয়ে সক্ষম এবং তিনি ওয়াশিংটনের সাথে কাজ করতে আগ্রহী হতে পারেন।

মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, মাদুরো গত দুই দশক ধরে একটি বিশাল কোকেন পাচার চক্র পরিচালনা করে আসছিলেন। চক্রটি মেক্সিকোর সিনালোয়া কার্টেল এবং কলম্বিয়ার ফার্ক বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মূলত চারটি বড় অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে— নারকো-টেরোরিজম বা মাদক-সন্ত্রাসবাদ, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র, মারণাস্ত্র এবং বিধ্বংসী সরঞ্জাম রাখা। মাদুরো দীর্ঘদিন ধরেই এই অভিযোগগুলোকে অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, ভেনিজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার জন্যই যুক্তরাষ্ট্র এই ‘সাম্রাজ্যবাদী’ ষড়যন্ত্র করছে।

1000031359
ছবি- রয়টার্স

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ নিয়ে তার আগ্রহ গোপন করেননি। সোমবার মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রাম্প এনবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা ভেনিজুয়েলার সঙ্গে যুদ্ধে নেই, আমাদের লড়াই মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে।‘ তিনি আরো জানান, দেশটিতে এখনই নির্বাচন সম্ভব নয় এবং অবকাঠামো পুনর্গঠনে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো বড় ভূমিকা রাখবে।

একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে আটক করার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এই অভিযানের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাশিয়া, চীন এবং ভেনিজুয়েলার বামপন্থী মিত্ররা এই অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই ঘটনার ফলে ওই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, গত শনিবার মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের সদস্যরা কারাকাসে এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে তার শয়নকক্ষ থেকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে। ১৯৮৯ সালে পানামা আক্রমণের পর লাতিন আমেরিকায় এটিই সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ।

  • ছবি সংগৃহীত