মতলব প্রতিনিধি: মতলবের ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আগামী ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার (জুমার দিন) ২৮ তম বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মাহফিল কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাদ আসর থেকে মাহফিলের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।

মাহফিলের প্রধান অতিথি ও আলোচকগণ:

মাহফিলটিতে প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন ঐতিহাসিক তাজ জামে মসজিদের খতিব এবং মুহাম্মদিয়া গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান গবেষক মুফতি উল আজম আবুল খায়ের মুহাম্মদ আযী’যুল্লাহ ছাহেব।

বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দৈনিক আল ইহসান-এর নিয়মিত লেখক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট

ঐতিহ্যবাহী মোহাম্মদীয়া জামিয়া শরীফ মাদ্রাসার মুহতামিম: মুফতি মুহাম্মদ আলমগীর হুসাইন ছাহেব।

বিশেষ আকর্ষণ:

মাহফিলের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাড়া জাগানো আলোচিত ক্বাছিদা পাঠক আনিসুজ্জামান আফ্রিদি ছাহেব ও হাফিজ হামিদুল্লাহ ছাহেব। তাঁদের মনোমুগ্ধকর ক্বাছিদা পরিবেশনার জন্য এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দেয় বলে জানা যায়।

স্থানীয় উলামা ও উপস্থাপনা:

স্থানীয় মসজিদের খতিবগণ এবং ওলামায়ে কেরামগণও মাহফিলে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন।

 মাহফিলের উপস্থাপনার দায়িত্বে থাকবেন মাওলানা রকিবুল ইসলাম ছাহেব।

মাহফিলে আরো উপস্থিত থাকবেন বলে জানা যায় স্থানীয় গণ্যমান্য বিশেষ অতিথিবৃন্দ এমনটি জানিয়েছেন মাহফিল কর্তৃপক্ষ।

ইতিহাস ও ঐতিহ্য:

১৯৮৬ সালে এই মাহফিলের যাত্রা শুরু হয়, যা প্রখ্যাত ফুরফুরা শরীফের সিলসিলায় ঢাকার রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত শায়েখ আলাইহিস সালাম উনার নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছিল।

তৎকালীন সময়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে ঢাকা থেকে কুমিল্লার দাউদকান্দি ঘাট দিয়ে নদী পথে প্রায় অর্ধশতাধিক সফরসঙ্গী নিয়ে বেলতলী বাজারে সফর আসতেন উনারা। তাঁদের সফর ছিল আধ্যাত্মিক পরিবেশে আবৃত, সাদা কোর্তা, পাগড়ি, রুমাল, দূর থেকে দেখলে মনে হতো এ যেন আকাশ থেকে ফেরেশতা নেমে সামনের দিকে আসছে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর আবেগের সঞ্চার করত।

আয়োজন ও সার্বিক সহযোগিতা:

মাহফিলটি স্থানীয় প্রবাসী, ব্যবসায়ী, কৃষিজীবী, এবং চাকরিজীবীদের সার্বিক সহযোগিতায় দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে সফলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে বলে জানান কতৃপক্ষ।

বিশেষ ব্যবস্থা:

মহিলাদের জন্য: পর্দার সাথে আলোচনা শোনার সুব্যবস্থা আছে বলেও জানা যায়।

মেহমানদারি: দূর-দূরান্ত থেকে আগত উপস্থিত মুসল্লিদের জন্য মাহফিল শেষে আপ্যায়নের ব্যবস্থা আছে বলেও জানা যায়।

মাহফিল কমিটির আহ্বান:

মাহফিল কমিটির পক্ষ থেকে সকল ধর্মপ্রাণ মুসলিম ভাই-বোনদের মাহফিলে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মাহফিলটি শুধু জ্ঞানার্জনের স্থান নয়, বরং এটি একটি ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

উক্ত মাহফিলে ইসলামের পরিপূর্ণ শিক্ষা গ্রহণ ও আধ্যাত্মিক উন্নতির সুযোগ পাবেন বলে আশা করা যায়। সকলকে মাহফিলে উপস্থিত হয়ে আলোচনাগুলো শোনার এবং সবার জন্য দোয়া করার বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে মাহফিল কমিটির পক্ষ থেকে।