ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের একটি ভিডিও বার্তা সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং হত্যাকাণ্ডকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে উল্লেখ করেছেন। ভিডিওটি ঘিরে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রথমেই স্পষ্ট করা প্রয়োজন, একাধিক নির্ভরযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যাচাই টুল ব্যবহার করে দেখা গেছে, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি নয়। ফয়সালের মুখভঙ্গি, কণ্ঠস্বর ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য তার পূর্ববর্তী ভিডিও ও ছবির সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ। ভিডিওতে দাড়ি আংশিক অদৃশ্য হওয়ার বিষয়টি রেকর্ডিংয়ের সময় ব্যবহৃত ফিল্টারের কারণে হয়েছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। এটি ভিডিওটিকে সম্পূর্ণ কৃত্রিম বলে প্রমাণ করে না।
ভিডিওতে ফয়সাল দাবি করেছেন, তিনি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে অবস্থান করছেন। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো ভ্রমণ নথি, অবস্থান প্রমাণ বা সময়সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করেননি। ফলে শুধুমাত্র ভিডিওর ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
ভিডিওতে দেওয়া অন্তত একটি দাবি তথ্যগতভাবে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ফয়সাল বলেছেন, হাদি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে তিনি ছিলেন না। কিন্তু পূর্বে প্রকাশিত ভিডিও বিশ্লেষণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে, ঘটনার সময় মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা গুলিবর্ষণকারী ব্যক্তি ছিলেন ফয়সাল করিম মাসুদ এবং চালক ছিলেন আলমগীর শেখ। এই তথ্য দেশের শীর্ষ গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিষয়ে ফয়সাল দাবি করেছেন, তিনি চলতি বছর ৯ লাখ টাকা আয়কর দিয়েছেন। অথচ তার ব্যাংক হিসাবে ১০০ কোটির বেশি টাকার লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে, যা তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। সর্বোচ্চ করহার বিবেচনায় তার করদানের অঙ্ক আরও বেশি হওয়ার কথাএ- বিষয়টি গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
ভিডিওতে ফয়সাল নিহত ওসমান হাদির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক সম্পর্কের কথা স্বীকার করলেও, কে তাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল সে বিষয়ে নীরব থাকেন। একই সঙ্গে তিনি জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেও, তার বক্তব্যের পক্ষে নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
সব মিলিয়ে, ভিডিওটি বাস্তব হলেও এতে একাধিক অসঙ্গতি, যাচাই না হওয়া দাবি এবং প্রমাণিত মিথ্যা তথ্য রয়েছে। ফলে ফয়সাল করিম মাসুদের বক্তব্যকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ নেই। বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের আওতায় থাকাই জরুরি।
- মসজিদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থান।