হাদীর মৃত্যুর ঘটনা দেশকে নড়িয়ে দিয়েছে। এটি একটি গুরুতর মানবিক ট্র্যাজেডি এবং এই মৃত্যুর ন্যায়বিচার, দায় নির্ধারণ ও সত্য উদঘাটন জরুরি। এই বিষয়ে প্রশ্ন তোলা, প্রতিবাদ করা এবং সংবেদনশীল হওয়া রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। হাদীর ঘটনাটি আলোচনায় থাকা একেবারেই স্বাভাবিক।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই আলোচনার ভিড়ে আমরা কি আরেকটি আত্মত্যাগকে নীরবে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছি?
সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন বীর শান্তিরক্ষী জীবন দিয়েছেন। দেশের পতাকা বুকে ধারণ করে, মানবতার পক্ষে দাঁড়িয়ে তাঁরা শহীদ হয়েছেন। আজ তাঁদের মরদেহ দেশে ফিরেছে, অথচ জাতীয় আলোচনায় এই ঘটনাটি প্রায় অনুপস্থিত।
এটি কোনো তুলনার প্রশ্ন নয়। হাদীর মৃত্যু বনাম বীর সেনাদের আত্মত্যাগ, এমন বিভাজন অমানবিক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত। কিন্তু সমানভাবে অগ্রহণযোগ্য হলো একটি ঘটনার আবেগে আরেকটি ঘটনাকে বিস্মৃতির দিকে ঠেলে দেওয়া।
এই ছয়জন সেনা কেবল ইউনিফর্মধারী ব্যক্তি নন, তাঁরা রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি, দায়িত্ব ও সম্মানের প্রতীক। তাঁদের আত্মত্যাগ স্মরণ না করা মানে শুধু সেনাবাহিনীকেই নয়, রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা।
জাতি হিসেবে আমাদের স্মৃতি কি এতটাই স্বল্পমেয়াদি যে আলোচনার ট্রেন্ড বদলালেই আত্মত্যাগের মূল্য কমে যায়? নাকি আমরা নীরবে মেনে নিচ্ছি যে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহতদের স্মরণ করা ঐচ্ছিক?
হাদীর মৃত্যু আমাদের ন্যায়বিচারের প্রশ্ন তোলে। আর এই ছয় বীর সেনার আত্মত্যাগ আমাদের কৃতজ্ঞতার প্রশ্ন তোলে। দুটোই রাষ্ট্রের সামনে সমান গুরুত্বপূর্ণ দায়।
একটি সচেতন সমাজ কখনোই বেছে বেছে শোক করে না। সে সব নিরপরাধ প্রাণের জন্য ন্যায়বিচার চায়, আর সব শহীদের জন্য সমান সম্মান নিশ্চিত করে।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আমাদের সবচেয়ে প্রয়োজন ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি। সব নিরপরাধ প্রাণের জন্য ন্যায়বিচার, আর সব শহীদের জন্য সমান সম্মান। তাহলেই আমরা সত্যিকারের মানবিক ও দায়িত্বশীল সমাজ হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতে পারবো।
- ছবি সংগৃহীত