নরসিংদীর বেলাব উপজেলার দুলালকান্দি এলাকার বাঁশবাজার কাঁসার বাপেরবাড়ি জোড়া সুন্নতি জামে মসজিদ ও সংশ্লিষ্ট মুহাম্মদীয়া জামিয়া শরীফ মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল জুমার নামাজের পর আনুমানিক দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে দুর্বৃত্তরা অতর্কিতভাবে মসজিদ ও মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে হামলা চালায়। এ সময় তারা মাদ্রাসার বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায়, মালামাল লুটপাট করে এবং রান্না করা খাবার বাইরে ফেলে দেয়। এছাড়া তারা দ্বীনি কিতাব ও ব্যানারেরও অবমাননা করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, হামলায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলো— দুলালকান্দি মধ্যপাড়ার আফজাল মিয়া, মুহম্মদ মালেক মিয়া, মুহম্মদ খোকন মিয়া, মুহম্মদ মিজান মিয়া, মুহম্মদ তায়েব উদ্দীন, মুহম্মদ হারুন মিয়া ও মুহম্মদ মানিক মিয়া।

স্থানীয়রা আরও জানান, দুলালকান্দি বাঁশবাজার কাঁসার বাপেরবাড়ি জোড়া মসজিদটি বেশ কিছুদিন ধরে একদল সন্ত্রাসী মনোভাবাপন্ন স্থানীয় দুর্বৃত্ত দখলের চেষ্টা করছে। তারা মসজিদে তালা দেওয়াসহ ইমাম সাহেব ও স্থানীয় মাদ্রাসার হাফেজ এবং শিক্ষার্থীদের নানাভাবে হয়রানি করে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে ইউএনও কার্যালয়ে অভিযোগ করা হলে বেলাব উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাইলাতুল হোসেন গত ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে উভয় পক্ষকে নিয়ে ইউএনও কার্যালয়ে একটি জরুরি সভা আহ্বান করেন। ওই সভায় তিনি তদন্তসাপেক্ষে সকল সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধরার নির্দেশনা দেন।

কিন্তু এরই মধ্যে গত ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখে পবিত্র জুমার নামাজের পর দুর্বৃত্তরা মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। হামলার ঘটনায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রাণ বাঁচাতে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেয়। এ সময় হামলাকারীরা মাদ্রাসার টিনের চালও খুলে নিয়ে যায়।

সরকারি ছুটির দিন থাকায় ইউএনও অফিসে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয় চেয়ারম্যান কাজল মিয়ার সাথে যোগাযোগ করে সাহায্য চাইলে তিনি বলেন- এ বিষয়ে তিনি কিছু করতে পারবেন না। উপরন্ত তিনি বলেন, এটা নাকি তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।

অথচ সংশ্লিষ্টরা বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ১৫ জুলাই মিটিংয়ে লাইলাতুল হোসেন তিনি নিজে মসজিদ-মাদ্রাসার শান্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে চেয়ারম্যান কাজল মিয়াকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেন।

মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

  • মসজিদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থান।