চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার সুরানপুর গ্রামে গত কিছুদিন ধরে হিংস্র কুকুরের আক্রমণে একের পর এক ছাগল ও ভেড়া মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কুকুরের কামড়ে আরও অনেক গবাদিপশু গুরুতর আহত হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি কুকুরের কামড়ের কারণে রেবিস সংক্রমণের আশঙ্কাও বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হিংস্র কুকুরগুলো প্রায়ই গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং সুযোগ পেলেই ছাগল ও ভেড়ার ওপর হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলায় অনেক পরিবারের গবাদিপশু মারা গেছে বা গুরুতর আহত হয়েছে।
এক ভুক্তভোগী জানান, কুকুরে কামড়ানো একটি ছাগলের চিকিৎসা করতে গিয়ে তার বাবুকেও সতর্কতামূলকভাবে রেবিসের টিকা নিতে হয়েছে। এতে গ্রামবাসীর মধ্যে মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গ্রামের হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো। অনেক পরিবার সংসারের বাড়তি আয়ের আশায় মাত্র একটি বা দুটি ছাগল পালন করে। এসব গবাদিপশুই অনেকের কাছে সঞ্চয় ও অর্থনৈতিক ভরসা হিসেবে বিবেচিত।
কিন্তু হিংস্র কুকুরের আক্রমণে সেই ছাগলগুলো মারা গেলে শুধু একটি প্রাণহানিই ঘটে না, বরং ভেঙে পড়ে একটি পরিবারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা। হারিয়ে যায় তাদের সামান্য আয়ের সম্ভাবনা এবং অনেক পরিবার হঠাৎ করেই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে।
স্থানীয়রা দ্রুত হিংস্র কুকুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ, আক্রান্ত ও আহত গবাদিপশুর চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট প্রাণিসম্পদ বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
গ্রামবাসীর দাবি, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে গবাদিপশুর পাশাপাশি শিশু ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
- মসজিদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থান।