নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) সংলগ্ন পকেট গেট এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের হামলায় প্রায় পাঁচ বছর বয়সী দুই শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। আহত শিশুদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ফলে শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে।

তবে এই ঘটনা শুধু নোবিপ্রবিতেই সীমাবদ্ধ নয়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলা ও শহরে বেওয়ারিশ কুকুরের আক্রমণের ঘটনা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও কুকুরের কামড়ে মানুষ, বিশেষ করে শিশু, আহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। যদিও দেশে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে অগ্রগতি হয়েছে, তবুও প্রতিবছর কুকুরের কামড়ে আহত মানুষের সংখ্যা দুই লাখেরও বেশি বলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট তথ্যসূত্রে উল্লেখ রয়েছে, যার বড় একটি অংশই শিশু।

এদিকে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা বা নির্যাতনের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নজির থাকলেও, বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকেই।

স্থানীয়দের দাবি, বেওয়ারিশ কুকুরকে কেন্দ্র করে জনমনে আতঙ্ক ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল ও জনবহুল স্থানে শিশু ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সচেতন মহলের একাংশের মতে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেওয়ারিশ কুকুর ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন। তাদের দাবি, আক্রমণাত্মক, গুরুতর অসুস্থ বা পুনর্বাসন-অযোগ্য বেওয়ারিশ কুকুরের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ড অনুসরণ করে ইউথেনেশিয়া (ব্যথাহীন মৃত্যু) বিবেচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি জনবহুল এলাকায় কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণী অপসারণ এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

  • মসজিদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থান।