গতকাল (২০ জুলাই) রাতে ফেসবুকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের সাথে এক নারীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে জামায়াতপন্থী কিছু ফেসবুক আইডি থেকে গাজী নজরুলকে সমর্থন করে দুটি দাবি প্রচার করা হয়।

১. ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদনা করা।

২. ভিডিওতে দৃশ্যমান নারী এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী।

ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত নয়

জামায়াতপন্থী ফেসবুক আইডিগুলো থেকে প্রথম যে দাবিটি করা হয়েছে সেটি অসত্য। 

ভিডিওটি বিশ্লেষণ ও পরীক্ষা করে দ্য ডিসেন্ট নিশ্চিত হয়েছে এটি এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত নয়। তবে ওই ভিডিওটির স্ক্রিনশটের সাথে কিছু এআই দিয়ে তৈরি ছবিও প্রচারিত হয়েছে কিছু জামায়াতপন্থী আইডি থেকে।

সিসিটিভি ফুটেজের দৃশ্যমান টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী, এটি ২০২৩ সালের ১ জুলাই ধারণ করা। তবে দ্য ডিসেন্ট নিজস্ব পদ্ধতিতে ভিডিও ধারণ করার সময় এবং স্থানের বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি।

দ্বিতীয় স্ত্রী কিনা তা নিয়ে ধোঁয়াশা

ভিডিওতে দৃশ্যমান তরুণীকে এমপি গাজী নজরুলের স্ত্রী বলে দাবি করা হয়েছে ফেসবুকে জামায়াতপন্থী বিভিন্ন একাউন্ট থেকে। গাজী নজরুল ইসলাম নিজেও দ্য ডিসেন্টকে বলেছেন, ওই নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী।

বিয়ের কাবিন আছে কিনা জিজ্ঞেস করলে গাজী নজরুল জানান, তাদের কাছে কাবিন নেই। তবে যিনি বিয়ে নিবন্ধ করেছেন তার কাছ থেকে সংগ্রহ করে দেয়া যাবে।

“ওইটা আছে বিবাহ যিনি রেজিস্ট্রি করেছেন তার খাতায়। ওটা নিয়ে দিতে হবে। ঘণ্টাখানেক সময় লাগবে”, বলেন তিনি।

গাজী নজরুল দাবি করেন ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি গত ১৩ জুলাইয়ের। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজের টাইমস্টাম্পে রেকর্ডের সময় ২০২৩ সালের ১ জুলাই দেখা যাচ্ছে। 

এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে এমপি বলেন, সময়ের এই পার্থক্য কেন দেখাচ্ছে সেটা নিয়ে তার কোন ধারণা নেই।

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের বিয়ে হয়েছে গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে। আমার প্রথম স্ত্রীসহ সবার সম্মতিতে বিয়ে হয়েছে। আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম মোসাম্মাৎ মরিয়ম আক্তার, তার বাবার নাম মাসুম বিল্লাহ। তাদের বাড়ি সাতক্ষীরার গাবুরা ইউনিয়নে। বর্তমানে ঢাকায় থাকেন।’’

এদিকে আজ দুপুর ১২টায় গাজী নজরুল ইসলাম তার ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে লিখেন, ‘‘গত ১৭ জুন, ২০২৬ তারিখে পারিবারিকভাবে এবং আমার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী মোছাঃ মরিয়াম বেগমের সঙ্গে তার পিতা মোঃ মাসুম বিল্লাহর বাসভবনে আমাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। ফলে আমাদের বিরুদ্ধে প্রচারিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কোনো সত্যতা নেই।’’

পাশাপাশি গাজী নজরুলের ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম আজ এক ভিডিও বার্তায়ও গাজী নজরুল ইসলাম দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন এবং মরিয়ম তার স্ত্রী হিসেবে বক্তব্য দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মেয়ের বাবা এবং মেয়ের সাথে কথা বলেছে দ্য ডিসেন্ট। প্রথম স্ত্রীর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

মেয়ের বাবা মাসুম বিল্লাহ বলেন, “৩ লক্ষ টাকা দেনমোহরে গত ১৭ জুন আমার মেয়ের সাথে বিয়ে হয় গাজী নজরুল ইসলামের। ওইদিন উনারা আমার অফিসে (মগবাজার) এলে রেস্ট নিচ্ছিলেন ওখানেই। সেখান থেকে ভিডিওটি ধারণ হয়। এর সাথে আমার শ্যালক ওবায়দুল্লাহ জড়িত। সে আমার অফিসে সহকারী হিসেবে কাজ করতো।’’

এ ব্যাপারে ভিডিওতে দৃশ্যমান নারী মরিয়ম খাতুন বলেন, ‘‘উনি আমার স্বামী। আমাদের বিয়ে হয়েছে। ওইদিন ঘুরতে গিয়ে আমরা আমার বাবার অফিসে রেস্ট নিচ্ছিলাম।’’

মরিয়ম খাতুন জানান, তিনি এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। 

তবে দ্য ডিসেন্ট মরিয়ম খাতুনের একটি বায়োডাটা সংগ্রহ করেছে যেটিতে গাজী নজরুল ইসলাম এমপি কর্তৃক গত ২২ জুন তারিখে সাক্ষর করা সুপারিশ রয়েছে।

বায়োডাটাটিতে এমপির স্বাক্ষরের উপরে সবুজ কালিতে হাতে লেখা রয়েছে, “জোর সুপারিশ করছি”।

বায়োডাটাটিতে মরিয়ম খাতুনের বৈবাবিহক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ লেখা রয়েছে।

১৭ জুন বিয়ে করে থাকলে ২২ জুন এমপি কর্তৃক স্বাক্ষরিত মরিয়মের বায়োডাটাতে ‘অবিবাহিত’ লেখা হয়েছে কেন– এ বিষয়ে জানতে পরবর্তীতে গাজী নজরুল ইসলামকে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

  • মসজিদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থান।