আজ ১০ জুলাই ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, ‘ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতা’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ঐতিহাসিক মহাসমাবেশ থেকে দেশী-বিদেশী ও আন্তর্জাতিক কুফরী শক্তির সমস্ত চক্রান্তের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এক কঠোর ও আপসহীন ঘোষণা প্রদান করা হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ৯৮ ভাগ মুসলমানের এই বাংলাদেশে কোনো কুফরী তর্জ-তরীকা, জাতীয় দাসত্ব এবং দ্বীন-বিরোধী চক্রান্ত এক সেকেন্ডের জন্যও বরদাশত করা হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব, ঈমান ও ধর্মীয় ঐতিহ্য সুরক্ষায় মহাসমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি নিম্নোক্ত দাবি ও আলটিমেটামসমূহ পেশ করা হলো:
১. দেশদ্রোহী ‘র’, ইসকন ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনসমূহ নিষিদ্ধকরণ এবং তথাকথিত ১৬ জুলাইয়ের রথযাত্রা বন্ধের দাবি
• উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক ধ্বংস: দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়া ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW), উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘ইসকন’, ‘হিন্দু মহাজোট’ এবং ‘সনাতন বিদ্যার্থী সংগঠন’ সহ হিন্দুদের সমস্ত নেটওয়ার্ক অবিলম্বে নিষিদ্ধ, উচ্ছেদ এবং জড়িতদের ফাঁসি দিতে হবে।
• রথযাত্রা নিষিদ্ধকরণ: দেশব্যাপী ১২৮টি স্থানে ১৬ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া ইসকনের রথযাত্রা রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। এর আড়ালে দেশব্যাপী বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চক্রান্ত চলছে। পূজাপার্বণ সব মন্দিরের ভেতর সীমাবদ্ধ রাখতে হবে; বাইরে কোনো মিছিল বা রথযাত্রা করতে দেওয়া হবে না।
• অবৈধ মন্দির ও মূর্তি উচ্ছেদ: মুসলমানদের জায়গা এবং সরকারি খাস জমি দখল করে গড়ে ওঠা দেশের অধিকাংশ অবৈধ মন্দির ও মূর্তি (যেমন: গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নির্মাণাধীন ১৪৪টি মূর্তি ও টাঙ্গাইলের ৩০ ফুটের বিষ্ণুমূর্তি) রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে অবিলম্বে ভেঙে ফেলতে হবে।
• মন্দিরে নজরদারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূজা বন্ধ: সকল মন্দিরে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি চালাতে হবে এবং কীর্তনের নামে হিন্দুদের জমায়েত ও গোপন মিটিং বন্ধ করতে হবে। কোনো স্কুল, কলেজ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মন্দির তৈরি করা বা সরস্বতী পূজাসহ কোনো পূজা করা যাবে না।
২. ভূমি, জাতীয় সম্পদ ও সমুদ্রবন্দর সংরক্ষণ
• অমুসলিমদের কাছে জমি বিক্রি নিষিদ্ধ: বাংলাদেশের এক ইঞ্চি জমিও কোনো হিন্দু, বিধর্মী বা বিদেশীর কাছে বিক্রি করা যাবে না এবং কোনো অমুসলিম এদেশের জমি কিনতে পারবে না।
• ইজারা ও লিজ চুক্তি বাতিল: সেন্টমার্টিন দ্বীপ, দেশের সমুদ্র-নৌ-স্থল-বিমানবন্দর এবং গভীর ও অগভীর সমুদ্রের তেল-গ্যাস কূপ ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’, ‘মেডলগ’ কিংবা ‘এপিএম টার্মিনালস মার্স্কলাইন’ সহ কোনো বিদেশী বা ইহুদি-খ্রিস্টান বহুজাতিক কোম্পানির হাতে ইজারা দেওয়া যাবে না। বন্দর বিক্রির দালাল মণিরুজ্জামান (বন্দরের চেয়ারম্যান) এবং আশিক চৌধুরীকে (বিডার চেয়ারম্যান) অবিলম্বে বহিষ্কার, গ্রেফতার ও ফাঁসি দিতে হবে। ভারত ও মিয়ানমার কর্তৃক ‘স্লান্ট ড্রিলিং’ বা বাঁকা খনন প্রযুক্তির মাধ্যমে সমুদ্রসীমা থেকে তেল-গ্যাস চুরি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
• উপজাতিদের ওপর কর দ্বিগুণকরণ: পাহাড়ি উপজাতিদের ‘আদিবাসী’ দাবি করা রাষ্ট্রদ্রোহী চক্রান্তকারীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। উপজাতিদের কর মওকুফ না করে বরং করের পরিমাণ দ্বিগুণ করতে হবে।
৩. প্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনী থেকে বিধর্মীদের সম্পূর্ণ অপসারণ
• গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে অমুসলিম উচ্ছেদ: সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, পুলিশ কিংবা আনসার—কোনো বাহিনীতে বা প্রশাসনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী ও নীতিনির্ধারণী পদে কোনো হিন্দু, ভারতীয় বা বিধর্মী রাখা যাবে না।
• সচিবালয়ের উগ্রবাদী কর্মকর্তার বিচার: বাংলাদেশ সচিবালয়ের শিল্প মন্ত্রণালয়ে কর্মরত চরম উগ্রপন্থী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন মধুর মতো যারা সরকারি পদে থেকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিষোদগার ও ‘কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ’ শুরু করার হুমকি দিচ্ছে, তাকে অবিলম্বে চাকরি থেকে বরখাস্ত ও গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
৪. কাফের-মুশরিকদের পণ্য ও সামাজিক বয়কট
• অনতিবিলম্বে সকল কাফের ও মুশরিকদের তৈরি পণ্য সামগ্রী সম্পূর্ণ বয়কট করার ডাক দেওয়া হচ্ছে। হিন্দুদের কোনো বাড়ি ভাড়া দেওয়া যাবে না, তাদের দোকান থেকে খাবার বা পণ্য কেনা যাবে না এবং তাদের কাছে চিকিৎসা বা সন্তানদের পড়াশোনা করতে দেওয়া যাবে না। ভারত ও কাফির রাষ্ট্রসমূহের ক্ষতিকর এবং স্লো-পয়জন মিশ্রিত সকল পণ্যের আমদানি রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।
৫. দেশদ্রোহী ড. ইউনূস ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের ফাঁসি
• আমেরিকার কাছে গোলামীর হুকুমনামা বা বাণিজ্য চুক্তি করে দেশ বিক্রি এবং বন্দর-খনি-নারিকেল দ্বীপ হস্তান্তরের চক্রান্তকারী সুদখোর লাওওয়াত্ব ইউনূস এবং তার সহযোগী স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, পরিবেশ উপদেষ্টা রেজওয়ানা হাসান, জ্বালানি উপদেষ্টা ফওজুল কবির খান, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান শুভ্র, রজার খলীল এবং প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা শামস সরকারসহ এই চক্রের সাঙ্গপাঙ্গদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে।
৬. কৃত্রিম মহামারী, ভ্যাকসিন ব্যবসা ও বৈশ্বিক ‘নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার’ নস্যাৎ
• নতুন নতুন ভাইরাসের আবিষ্কার, ৩ কোটি মশা ছড়ানো, কোভিড কিংবা ডেঙ্গুর মতো মহামারী ছড়ানোর অপপ্রচার মূলত কাফেরদের তৈরি ‘জীবাণু অস্ত্র’ ও বিলিয়ন ডলারের ভ্যাকসিন ব্যবসা, যা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। দিল্লিতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত কর্তৃক বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাসের সক্রিয়তার মিথ্যা দাবি মূলত বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে টার্গেট করার একটি ‘ফ্রেমিং অপারেশন’। এই ইহুদিবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী অক্ষের বিরুদ্ধে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
৭. শিক্ষাব্যবস্থার দীনীকরণ ও মাদরাসা অবমাননার জবাব
• জাতীয় শিক্ষানীতি ও পাঠ্যপুস্তক থেকে সমস্ত অমুসলিম, ধর্মনিরপেক্ষ, কুফরি মতবাদ ও হিন্দুত্ববাদী প্রবন্ধ বাদ দিয়ে পুরোপুরি ‘দীনীকরণ’ করতে হবে। স্কুলগুলোতে নাচ-গানের শিক্ষক নিয়োগের নামে চরিত্রহীনতার এজেন্ডা বাতিল করতে হবে। মাদরাসা নিবন্ধন না করলে তালা ঝুলানোর হুমকি দেওয়া শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজকে অবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে।
৮. সামরিক বাহিনীর সম্প্রসারণ ও যুবসমাজকে যুদ্ধ প্রশিক্ষণ প্রদান
• দেশের মোট বাজেটের এক-চতুর্থাংশ (২৫%) সেনাবাহিনীর জন্য বরাদ্দ দিতে হবে। সেনাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা ৩০ লাখ, নৌবাহিনীর সদস্য ১০ লাখ এবং বিমানবাহিনীর সদস্য সংখ্যা ১০ লাখে উন্নীত করতে হবে। স্কুল-কলেজে গান-বাজনা এবং বিশ্বকাপসহ সর্বপ্রকার হারাম খেলাধুলা রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করে যুবসমাজকে বাধ্যতামূলক সামরিক ও যুদ্ধ-জিহাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। গাজায় মুসলিম নিধনকারী ও আযান নিষিদ্ধকারী কাফির দেশসমূহের (আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ইত্যাদি) পতাকা ওড়ানো কুফরী এবং ঈমান নষ্টের শামিল।
৯. দেশব্যাপী বেওয়ারিশ কুকুর নিধন শুরুকরণ
• জননিরাপত্তার স্বার্থে অবিলম্বে দেশব্যাপী বেওয়ারিশ কুকুর নিধনের মহোৎসব শুরু করতে হবে।
“যে চুক্তি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারে না, যে শিক্ষাব্যবস্থা সন্তানদের ঈমান হরণ করে, যেসব পণ্যদ্রব্য ও ইজারা মুসলমানদের রক্তে হারাম মিশ্রিত করে এবং যে কুফরী শক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার জমিনে সাম্রাজ্যবাদী শাসন কায়েম করতে চায়—তা উপড়ে ফেলাই এই দেশের তৌহীদী-রেসালাতী ইনসাফ কায়েমকারী জনতার একমাত্র সংকল্প।”
সরকার যদি ১৬ জুলাইয়ের রথযাত্রা নিষিদ্ধসহ এই দাবিগুলো অবিলম্বে মেনে না নেয়, তবে দেশে বড় বিশৃঙ্খলা সুষ্টি হকে পারে।
সমাবেশে ‘ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতা’র আহবায়ক আরিফ আল খবীর স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করছে যে, আমরা কোনো উগ্রবাদী দল নই; আমরা যা বলি তা দেশ ও দ্বীনের সুরক্ষার জন্য বলি। যারা আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায় বা ছবি বিকৃতি করে ক্ষতি করার হুমকি দেয়, তাদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
সমাবেশে এক হাজারের অধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। বক্তাগণ: আহ্বায়ক মুহাম্মদ আরিফ আল খবীর, সদস্য সচিব কাজী আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ ফরহাদ আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
- মসজিদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থান।