খুলনার পাইকগাছা উপজেলার খড়িয়া নবারুণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে ভারতীয় নাগরিকত্ব, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে একাধিক তদন্তে বিভিন্ন তথ্য উঠে এলেও তিনি এখনো দায়িত্বে বহাল থাকায় এলাকায় অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গের একটি ভোটার তালিকায় দীপক চন্দ্র সরকারের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার শক্তিগড় এলাকার একটি ঠিকানার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। একই সময়ে তিনি বাংলাদেশের খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলারও ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য ভারতের স্থায়ী বাসিন্দা ও ভোটার বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, ২০২৪ সালে বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মী, নিরাপত্তা কর্মী ও আয়া নিয়োগের সময় আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ৩০ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ তোলা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ, সমাবেশ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেন।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ প্রণোদনা তহবিলের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও অনিয়ম হয়েছে। তদন্তে কিছু ব্যয়ের বিল-ভাউচার এবং কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে একাধিক তদন্ত পরিচালিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকের ভারতীয় নাগরিকত্বের বিষয়টি যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকের শিক্ষক পদে থাকা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পরে বিষয়টি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়নি।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকার। তার দাবি, তিনি ভারতের ভোটার নন, বাংলাদেশের নাগরিক। পাশাপাশি অনুদানের অর্থ আত্মসাৎ ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে তিনি দাবি করেন।
- মসজিদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থান।