চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে লাভজনক উইং ‘নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল’ (NCT) বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে যখন আলোচনা তুঙ্গে, তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর তীব্র সমালোচনা ও যৌক্তিক প্রশ্ন তুলছেন দেশের সচেতন নাগরিক ও সমাজকর্মীরা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমাজকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্ট নাঈমের একটি বিশ্লেষণাত্মক পোস্ট বন্দর ব্যবহারকারী, ব্যবসায়ী সমাজ এবং সাধারণ মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তার মতে, দেশের বন্দর যদি নিজেরাই চালিয়ে বেশি লাভ রাখতে পারে, তাহলে দেশের স্বার্থে সেটাই করা উচিত; বিদেশি সহায়তা লাগলে নেওয়া হোক, কিন্তু কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ নয়।

ফেসবুক পোস্টে অ্যাক্টিভিস্ট নাঈম উল্লেখ করেন, সার্ভিস সেক্টরে বড় বিনিয়োগ সবসময় অপরিহার্য নয়—যদি নিজের সক্ষমতা থাকে। বন্দর পরিচালনা মূলত একটি সেবা বা সার্ভিস সেক্টর। এখানে জমি, অবকাঠামো ও বেসিক সুবিধা—সবই রাষ্ট্রের নিজস্ব সম্পত্তি। যদি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব জনবল, অভিজ্ঞতা, অপারেশনাল সক্ষমতা এবং আয় করার সামর্থ্য থাকে, তাহলে শুধু “বিদেশি অপারেটর” নামের মোহে দীর্ঘমেয়াদি কনসেশন দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও যোগ করেন, সার্ভিস সেক্টরে আসল শক্তি হলো ব্যবস্থাপনা, দক্ষতা, প্রযুক্তি ও জবাবদিহি। এগুলো নিজেরা উন্নত করা সম্ভব। প্রয়োজন হলে ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্সি, প্রযুক্তি সহায়তা বা স্বল্পমেয়াদি অপারেশনাল সাপোর্ট নেওয়া যায়। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, ৩০ বছরের জন্য একটি লাভজনক জাতীয় সম্পদের নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে তুলে দিতে হবে।

বণিক বার্তার সাম্প্রতিক প্রতিবেদন এবং বন্দর মূল্যায়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, দুবাই-ভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের (DP World) প্রস্তাবিত আর্থিক মডেলে এই চুক্তি সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রায় ১,৪৭৬ কোটি টাকার সরাসরি নিট রাজস্ব ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। যেখানে এনসিটি টার্মিনালটি বর্তমানে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় শতভাগ সফলভাবে চলছে এবং পুরো মুনাফা রাষ্ট্রের ফান্ডে আসছে, সেখানে বিনিয়োগের নামে এমন চুক্তি কেন হবে—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই সমাজকর্মী।

তার করা ফেসবুক পোস্টের মূল প্রশ্নগুলো এখন বন্দর সংশ্লিষ্ট সবার মুখে মুখে:

1. নিজেদের সক্ষমতা থাকলে সার্ভিস সেক্টরে এত বড় কনসেশন কেন?

2. রাষ্ট্রের সম্পদ দিয়ে বেসরকারি ও বিদেশি লাভের রাস্তা খুলে দেওয়া হবে কেন?

বন্দর বিশেষজ্ঞদের মতে, এনসিটি টার্মিনালটি একা চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় ৪৪ শতাংশ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করে। বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান ‘চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড’ এটি সফলভাবে পরিচালনা করছে।

শিপিং খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি লাভজনক রানিং টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে দেওয়ার যুক্তি তখনই খাটত, যদি তারা নতুন কোনো গভীর সমুদ্রবন্দর বা টার্মিনাল নিজেদের শতভাগ অর্থায়নে তৈরি করে আনত। কিন্তু প্রস্তুত অবকাঠামোতে বিদেশি অপারেটর বসিয়ে দেশের নিশ্চিত নিট আয় কমিয়ে ফেলার কোনো যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে না।

  • মসজিদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থান।