বাংলাদেশের সামরিক আধুনিকায়ন ও সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা RAW (রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং)-এর কথিত তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাংবাদিক জুলকারনাঈন সায়ের প্রকাশিত Target Analysis Report-এ এ সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী (BAF), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB) এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের কাছ থেকে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ব্যবহার করা হতো। এসব যোগাযোগের মাধ্যমে ইউনিটের জনবল, অস্ত্রের সক্ষমতা, অপারেশনাল তথ্য এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠন সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, BGB-কে কেন্দ্র করে পরিচালিত একাধিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা-সংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্যের বিনিময়ে অর্থ প্রদানের প্রস্তাব দেওয়া হতো।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কিছু অপারেটিভের ভারতের বিন্নাগুড়ি সেনানিবাসে যাতায়াতের তথ্যও পাওয়া গেছে। এ তথ্যকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সামরিক সক্ষমতা, সীমান্ত নিরাপত্তা, অস্ত্র সংগ্রহ ও বাহিনীর মোতায়েন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা কার্যক্রমের পরিচিত অংশ। তবে উত্থাপিত অভিযোগের সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান সামরিক আধুনিকায়নের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে BGB-এর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে উল্লেখ্য, Target Analysis Report-এ উত্থাপিত দাবিগুলোর সত্যতা এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ বা ভারতের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য হলে তা বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য উদ্বেগজনক হতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা করাই সমীচীন।

 

সূত্র: সাংবাদিক জুলকারনাঈন সায়ের প্রকাশিত Target Analysis Report এবং ডিফেন্স কেয়ারের প্রকাশিত তথ্য।

  • মসজিদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থান।