সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ঢাকার বি.এড. (অনার্স) ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, বারবার স্মারকলিপি, লিখিত আবেদন এবং মৌখিকভাবে সমস্যার কথা জানানোর পরও অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. খাদেমুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন ছাত্রাবাসের মৌলিক সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান করতে পারেনি। দীর্ঘদিন ধরে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ছাত্রাবাসে ভাঙা কল, নোংরা ও অচল টয়লেট, অপর্যাপ্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বিশুদ্ধ পানির সংকট, নিরাপত্তাহীনতা এবং বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ দীর্ঘদিনের সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এসব বিষয়ে একাধিকবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি বলে দাবি তাদের।
শিক্ষার্থীদের পক্ষে সাগর ফকির ও সনি বিশ্বাস বলেন, “আমরা বহুবার সমস্যার কথা জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত এমন কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাইনি, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে পারে। ছাত্রাবাসের পরিবেশ দিন দিন আরও অনুপযোগী হয়ে উঠছে। একজন শিক্ষার্থী যখন নিজের কক্ষ, ব্যক্তিগত জিনিসপত্র কিংবা মোটরসাইকেলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবেই পড়াশোনার পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
তারা আরও বলেন, “অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে বর্তমান প্রশাসন ছাত্রাবাসের সমস্যাগুলোকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের ন্যূনতম চাহিদা ও আবাসিক সমস্যার চেয়ে অন্য বিষয়গুলো অধিক অগ্রাধিকার পাচ্ছে। ফলে প্রশাসনের কার্যকারিতা ও শিক্ষার্থীবান্ধব মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।”
শিক্ষার্থীদের মতে, সমস্যাগুলো শুধু অবকাঠামোগত নয়; এগুলো তদারকি ও জবাবদিহিতার সঙ্গেও জড়িত। বহিরাগতরা কীভাবে অবাধে ছাত্রাবাসে প্রবেশ করে, নিরাপত্তাকর্মীরা কেন সবসময় কার্যকর ভূমিকা পালন করেন না এবং কেন দীর্ঘদিন ধরে একই সমস্যাগুলোর সমাধান হয় না—এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর তারা পাচ্ছেন না।
সনি বিশ্বাসের দাবি, মোটরসাইকেল চুরির দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ তাকে জানান যে, এ ধরনের বিষয়ে পুলিশের সহযোগিতা নিতে হবে এবং প্রশাসন সরাসরি দায় নিতে পারবে না। এ বক্তব্যে তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “যেখানে একজন শিক্ষার্থী নিজের সম্পদের নিরাপত্তা নিয়েও নিশ্চিন্ত থাকতে পারে না, সেখানে নিরাপদ আবাসিক পরিবেশের দাবি কতটা যৌক্তিকভাবে পূরণ হচ্ছে, সেটি বড় প্রশ্ন।”
সনি বিশ্বাস ও সাগর ফকির বলেন, “আমরা কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে নই, আমরা অবহেলার বিরুদ্ধে। আমরা শুধু একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ছাত্রাবাস চাই। শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম অধিকার নিশ্চিত করা হোক—এটাই আমাদের দাবি।”
শিক্ষার্থীরা দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং ছাত্রাবাসের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
- মসজিদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থান।