ষাটোর্ধ্ব মো. সমরুদ্দিন। পূর্বপুরুষের হাত ধরে ছোটবেলা থেকেই জড়িয়ে আছেন রেশম চাষের সঙ্গে। দীর্ঘদিনের নানা চড়াই-উতরাই ও মন্দা পরিস্থিতি পেরিয়ে এখনও তিনি ধরে রেখেছেন এই ঐতিহ্যবাহী পেশা। ফলনের ওঠানামা থাকলেও চলতি মৌসুমে আশার আলো দেখছেন এই রেশম চাষি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার চরধরমপুর গ্রামের মৃত আলতাব হোসেনের ছেলে মো. সমরুদ্দিনের পরিবারে বর্তমানে পাঁচ সদস্য রয়েছেন। রেশম চাষের মাধ্যমে তিনি মেয়েদেরও প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং তাদের বিয়ে দিয়েছেন। স্বাবলম্বী হওয়ার প্রত্যয়ে তিনি বছরে চারটি ক্রোপ (বন্দ) রেশম পালন করেন।
এবার জ্যৈষ্ঠ ক্রোপে তিনি ৫০০ থেকে ৬০০ উন্নত জাতের ডিম নিয়ে পলু পালন করছেন। নিজ বাড়ির আদর্শ রেশম পালন ঘরে কথা হলে তিনি জানান, এ মৌসুমে প্রায় ৬ মণ গুটি উৎপাদনের আশা করছেন। ডিম থেকে পলু এবং পরে গুটি উৎপাদন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে মাত্র ২০ দিন।
সমরুদ্দিন বলেন, “এবার মোট খরচ হবে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। আর গুটি বিক্রি করে এক লাখ টাকারও বেশি আয় হবে বলে আশা করছি।”
তিনি আরও জানান, তার খামারে এলাকার ৭-৮ জন অসহায় ও বিধবা নারী কাজ করেন। তাদের খাবারের পাশাপাশি সম্মানীও প্রদান করা হয়।
সরকারি সহযোগিতা সম্পর্কে সমরুদ্দিন বলেন, “ভোলাহাট জোনাল রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. তরিকুল ইসলাম নিয়মিত আমাদের বাড়িতে এসে পরামর্শ দেন। উন্নত ফলন পাওয়ার জন্য কী করতে হবে, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।”
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “মাত্র ২০ দিনে রেশম চাষ করে লাখ টাকা আয় করতে পারার সম্ভাবনায় পরিবারের সবার মুখে হাসি ফুটেছে। এ বছর ভোলাহাট উপজেলার অধিকাংশ রেশম চাষিই ভালো ফলন পাবেন বলে আশা করছি।”
ভোলাহাট জোনাল রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “আমি নিয়মিত রেশম চাষিদের খোঁজখবর রাখি এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরামর্শ প্রদান করি। উন্নত জাতের জীবাণুমুক্ত ডিম সরবরাহ ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ফলে এবার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “রেশম উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। এর সুফল ইতোমধ্যে চাষিরা পেতে শুরু করেছেন।”
- মসজিদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থান।