মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ফুলদী নদী থেকে উদ্ধার হওয়া এক তরুণীর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে উঠে এসেছে, ওই তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন আবু কালাম (৪৮), জামাল হোসেন (৪৪), রাসেল মিয়া (৪৪) এবং আল আমিন প্রধান (৫০)। তাদের সবার বাড়ি গজারিয়ার বড় ভাটেরচর এলাকায়।
গত ২৯ মে সকালে ফুলদী নদী থেকে গলায় সালোয়ার পেঁচানো অবস্থায় তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। মরদেহে পচন ধরায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পিবিআই তার পরিচয় নিশ্চিত করে। তিনি গজারিয়ার হোসেন্দী ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন।
পিবিআই সূত্র জানায়, গ্রেফতার দুই ব্যক্তির কাছে তরুণীর কিছু টাকা পাওনা ছিল। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তদন্তে জানা যায়, ওই বিরোধের জের ধরে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ২৬ মে সন্ধ্যায় তরুণীকে বড় ভাটেরচর নদীর তীরে ডেকে নেওয়া হয়। পরে নৌকায় করে নদীর অপর পাড়ে নিয়ে একটি ভুট্টাক্ষেতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে তার পরনের সালোয়ার ব্যবহার করে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
- ছবি সংগৃহীত