গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশে ডায়রিয়ার প্রকোপও বেড়ে যায়। অতিরিক্ত গরম, দূষিত খাবার ও অনিরাপদ পানির কারণে শিশু, নারী এবং বয়স্কসহ সব বয়সী মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। সময়মতো চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় যত্ন না নিলে ডায়রিয়া গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়রিয়ার ফলে শরীর থেকে দ্রুত পানি ও প্রয়োজনীয় লবণ বের হয়ে যায়। ফলে রোগী পানিশূন্যতায় ভুগতে পারেন। শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি, কারণ তাদের শরীরে পানির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকায় অল্প সময়েই তারা মারাত্মক পানিশূন্যতায় আক্রান্ত হতে পারে।
ডায়রিয়া হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শরীরে পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণ করা। এজন্য খাবার স্যালাইন অত্যন্ত কার্যকর। প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর রোগীকে স্যালাইন খাওয়ানো উচিত। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি, ডাবের পানি, স্যুপ, ভাতের মাড় ও অন্যান্য তরল খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, আধা লিটার বিশুদ্ধ পানিতে এক প্যাকেট খাবার স্যালাইন মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর ১০ থেকে ২০ চা-চামচ এবং দুই বছরের বেশি বয়সীদের ২০ থেকে ৪০ চা-চামচ স্যালাইন দেওয়া যেতে পারে। প্রস্তুত করা স্যালাইন ছয় ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করা উত্তম।
শিশুদের ডায়রিয়া হলে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো অব্যাহত রাখতে হবে এবং প্রয়োজন হলে আরও বেশি দিতে হবে। একই সঙ্গে স্বাভাবিক খাবার চালিয়ে যেতে হবে, তবে সহজপাচ্য ও তরল খাবারের পরিমাণ বাড়ানো ভালো।
ডায়রিয়ার অন্যতম কারণ হলো অপরিষ্কার হাত, দূষিত পানি এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার। তাই খাওয়ার আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পরে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পান করার আগে পানি ফুটিয়ে বা বিশুদ্ধ করে নেওয়া নিরাপদ। রাস্তার খোলা খাবার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি শরবত এড়িয়ে চলাও জরুরি।
যদি ডায়রিয়ার সঙ্গে বারবার বমি, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে।
ডায়রিয়া সাধারণ রোগ হলেও অবহেলা করার সুযোগ নেই। সচেতনতা, নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস এবং বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের মাধ্যমে এ রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
- ছবি সংগৃহীত