দেশের রাস্তাঘাটে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব ও ভয়াবহতা উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ ও শহরের সব বেওয়ারিশ কুকুর নিধনের দাবী জানিয়েছে সামাজিক সংগঠন ‘নিরাপদ শহর আন্দোলন’ (নিশা)। আজ ২০ মে ২০২৬ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনের সামনে মানববন্ধন ও প্রশাসক (মেয়র) বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে এমন দাবী জানিয়েছে ‘নিরাপদ শহর আন্দোলন’ নামক প্লাটফর্ম।
‘নিরাপদ শহর আন্দোলন’ প্লাটফর্ম এর উপদেষ্টা মুহম্মদ জিয়াউল হক বলেন, বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণের কারণে নগরবাসীর নিরাপদ চলাচলের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং শিশুদের স্কুল জীবন ধ্বংসের মুখে পড়ছে। বেওয়ারিশ কুকুরকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে জনস্বার্থে ঢাকা শহরসহ দেশজুড়ে সকল বেওয়ারিশ কুকুর নিধনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের জন্য আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরো বলেন, কোনো সভ্য রাষ্ট্রে এভাবে রাস্তা-ঘাটে বেওয়ারিশ কুকুর ঘুরে বেড়াতে পারে না। কুকুরের কামড়ে শুধু জলাতঙ্কই নয়, বরং সেপসিস, হার্ট অ্যাটাক, ধনুষ্টঙ্কার, পাস্তুরেলা, স্ট্যাফিলোক্কাসসহ প্রায় ৩০০ ধরনের ভাইরাস ও রোগ ছড়ায়। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরই প্রায় দেড় লাখ মানুষ কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন। এর বাইরে সরকারি হিসাবের বাইরেও বিপুল সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রচুর মানুষ মৃত্যুবরণ করছেন। এমনকি কুকুরের কারণে প্রতিনিয়ত বাইক দুর্ঘটনা ও গৃহপালিত পশুপাখিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
‘নিরাপদ শহর আন্দোলন’ এর উপদেষ্টা বলেন, কুকুরের লালার বিষ এমন পযায়ে পৌছেছে যে, জলাতঙ্কের টিকাও এখন শতভাগ কাজ করছে না, যার প্রমাণ সম্প্রতি গাইবান্ধায় ৫ জনের মৃত্যু। জলাতঙ্ক হওয়া মানেই নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও রাস্তায় অবাধে জলাতঙ্কবাহী কুকুর ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর ফলে নাগরিকরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অথচ গুটি কয়েক ‘কুকুরবাদী’ এনজিওর বাধা ও বাস্তবতাবিবর্জিত প্রচারণার কারণে সিটি কর্পোরেশন কুকুর নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না, যা নাগরিক সেবা ও আইনী শপথের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
তিনি আরো বলেন, বেওয়ারিশ কুকুর বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কুকুর নিধন বন্ধ থাকায় সামাজিক নিরাপত্তা ও সামাজিক বাস্তুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এছাড়া, কুকুর বন্ধ্যাত্বকরণ বা স্থানান্তর কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। স্থানান্তর করলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভারসাম্য নষ্ট ও নতুন উৎপাত শুরু হবে।
জিয়াউল হক বলেন, বন্ধ্যাত্বকরণের পর অনেক কুকুরের মেজাজ খিটখিটে ও আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে ওঠে। বন্ধ্যাকৃত কুকুর নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ধুঁকে ধুঁকে মারা যায়, যা অমানবিক ও প্রাণির প্রতি অবিচার। এছাড়া এই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ অপচয় হয়। যেখানে দেশে এখনও প্রায় ৩৪ লাখ পথশিশু খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে, দু’মুঠো খাবার পাচ্ছে না, সেখানে কুকুরের আবাসন বা টিকার পেছনে এই ব্যয় অন্যায্য, অন্যায়। এর পরিবর্তে ‘ইউথেনশিয়া’ বা ব্যথাহীন মৃত্যুর মাধ্যমে কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করাই মানবিক ও প্রাণবিক পন্থা।
সংগঠনটি প্রশ্ন তোলে, বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে আহত বা নিহত হলে এর দায়ভার কে নেবে? কুকুরবাদী এনজিওগুলো এজন্য অনেকাংশে দায়ী। অতএব, বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে কারো মৃত্যু হলে কুকুরবাদী এনজিওগুলোর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করার অধিকার থাকবে না কেন?
সহ মুখপাত্র ইব্রাহীম খলীল বলেন, কুত্তাবাদী এনজিওর আড়ালে নারী নিপীড়ন ও অসামাজিক কার্যক্রম চলার প্রচুর অভিযোগ রয়েছে। যার প্রমাণ- রবিনহুড নামের কুত্তাবাদী এনজিও। আর এদের পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থ দিয়ে মাঠে সক্রিয় রাখে ও বাস্তবতাবিবর্জিত কৃত্তিম কুকুর ভক্তি তৈরী করছে টিকা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। এদেরকে চিহ্নিত করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘প্রাণিকল্যাণ আইন-২০১৯’-এর ৪ ধারা অনুযায়ী, কোনো প্রাণী যদি মানুষের জীবন বা অন্য কোনো প্রাণীর জন্য জীবন সংশয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে তা নিধনের অনুমতি রয়েছে। এছাড়া ইসলামি ফতোয়াতেও ক্ষতিকর ও মালিকবিহীন কুকুর হত্যার নির্দেশনা রয়েছে।
নাগরিকদের নিরাপদ চলাচলের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে এবং ঢাকা শহরকে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে অবিলম্বে সকল বেওয়ারিশ কুকুর নিধনের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সিটি কর্পোরেশন ও সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে ‘নিরাপদ শহর আন্দোলন’।
- মসজিদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থান।