ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হতে পারে এমন ইঙ্গিত দেওয়ার পর টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তেলের দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার ৬ মে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আটকে থাকা সরবরাহ আবার বাজারে ফিরতে পারে এই প্রত্যাশায় দামে এ বড়পতন।
ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.৬৯ ডলার বা ১.৫ শতাংশ কমে ১০৮.১৮ ডলারে নেমে আসে। এর আগের সেশনে এটি ৪ শতাংশ কমেছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ১.৬৭ ডলার বা ১.৬ শতাংশ কমে ১০০.৬০ ডলারে দাঁড়ায়, যা আগের দিন ৩.৯ শতাংশ কমেছিল।
গত মঙ্গলবার ৫ মে ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অগ্রগতির কারণে তিনি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে সহায়তার সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করবেন। যদিও এ বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এতে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত মিলেছে এবং উপসাগরে আটকে থাকা জাহাজগুলো ধীরে ধীরে চলাচল শুরু করতে পারে, যা বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়াতে সহায়তা করবে। তবে শান্তি চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় দাম এখনো তুলনামূলক বেশি রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।
ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ বহাল থাকবে। সরবরাহ ঘাটতির কারণে গত সপ্তাহে ব্রেন্ট তেলের দাম ২০২২ সালের মার্চের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আটকে থাকা তেলবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপদে প্রণালি পার করানোর উদ্যোগ সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানান। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা কয়েকটি ইরানি নৌযান, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করে দুটি জাহাজকে নিরাপদে প্রণালি পার হতে সহায়তা করেছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক তেলের মজুত কমে গেছে, কারণ শোধনাগারগুলো উৎপাদন ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে টানা তৃতীয় সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের মজুত কমেছে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ১ মে শেষ হওয়া সপ্তাহে মজুত ৮.১ মিলিয়ন ব্যারেল কমেছে। একই সময়ে পেট্রল মজুত ৬.১ মিলিয়ন ব্যারেল এবং ডিস্টিলেট মজুত ৪.৬ মিলিয়ন ব্যারেল কমেছে।
সুত্রঃ ফেইস দ্যা পিপল
- মসজিদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থান।