জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরাম (UNPFII)-এর ২৫তম অধিবেশনে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক এবং অসত্য তথ্য উপস্থাপনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) ঢাকা মহানগর শাখা।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পরিকল্পিতভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে।

প্রতিবাদ সমাবেশে পিসিসিপি ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি মো. রাসেল মাহমুদের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মিজান উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পিসিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য শেখ আহমেদ রাজু বলেন, জাতিসংঘের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বাংলাদেশের পার্বত্যাঞ্চল, সরকার ও নিরাপত্তাবাহিনী সম্পর্কে একপাক্ষিক ও মিথ্যা তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, যা বাস্তবতার সম্পূর্ণ বিপরীত।

তিনি বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছে। এ নিয়ে ভুল তথ্য ও মিথ্যাচার নতুন নয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখলেই বাস্তবতা স্পষ্ট হবে।”

পিসিসিপি ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি রাসেল মাহমুদ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু রাজনৈতিক প্রতিনিধি বিদেশে বসবাস করে দেশের বাস্তবতা সম্পর্কে প্রকৃত ধারণা ছাড়াই পাহাড় নিয়ে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, জেএসএস, ইউপিডিএফ ও কেএনএফ-এর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর চাঁদাবাজিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। অথচ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এসব বাস্তবতা আড়াল করে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।

প্রধান বক্তা পিসিসিপির কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েশ বলেন, যারা জাতিসংঘের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে দেশের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন, তাদের চিহ্নিত করে রাষ্ট্রের স্বার্থে আইনের আওতায় আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সংবিধান, শান্তি চুক্তি ও প্রচলিত আইনের আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রামের অবাঙালি জনগোষ্ঠীরা ‘আদিবাসী’ নয়, বরং উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত।

স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির আহ্বায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হক বলেন, ২০০৭ সালের পর থেকে ‘আদিবাসী’ শব্দের রাজনৈতিক ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। এর পেছনে আন্তর্জাতিক কিছু ঘোষণাপত্রের বিতর্কিত অনুচ্ছেদ রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রের অখণ্ডতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি দাবি করেন, পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের আদি নিবাস বাংলাদেশ নয়; বরং মিয়ানমার, ভারত, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে তাদের ঐতিহাসিক বসতি রয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের আগে পাহাড়ে সক্রিয় আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে এবং সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

তারা ভূমি কমিশনে বাঙালি প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করে বৈষম্যহীন কমিশন গঠন, ২০১৬ সালের বিতর্কিত সংশোধনী বাতিল এবং নিরপেক্ষভাবে ভূমি জরিপ সম্পন্ন করার দাবি জানান।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য নিউজের সম্পাদক মেহেদী হাসান পলাশ, পিসিসিপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইঞ্জি. সাহাদাৎ ফারাজী সাকিব, স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির আহ্বায়ক জিয়াউল হক, পিসিসিপি ঢাকা মহানগরের সাবেক সভাপতি ইব্রাহিম খলিল অপি, সিনিয়র সহ-সভাপতি আল আমিন, দপ্তর সম্পাদক নজরুলসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাষ্ট্র, সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মিথ্যাচার চলতে থাকলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

  • মসজিদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থান।