রাজধানীর আফতাবনগরে নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন ঋক্ষশৈলী ও প্ল্যাটফর্ম প্ল্যানিং ড্রিমের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বৈশাখী মেলা-পরবর্তী সার্টিফিকেট বিতরণ ও পণ্য প্রদর্শনীতে উদ্যোক্তাদের ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। ২৪ এপ্রিল বিকেলে বরই তলা এলাকায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজন স্বল্প সময়ের মধ্যেই একটি প্রাণবন্ত উদ্যোক্তা সমাবেশে পরিণত হয়।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, গত ১১ থেকে ১৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বৈশাখী উৎসব ১৪৩৩-এর ধারাবাহিকতায় এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ৪০-এর বেশি উদ্যোক্তা বিকাল ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত নিজেদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ পান। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পোশাক, কসমেটিকস, জুয়েলারি, ঘর সাজানোর সামগ্রী এবং ঘরে তৈরি খাবারসহ নানা পণ্যের সমাহার ছিল এই প্রদর্শনীতে।
আয়োজক হিসেবে ছিলেন, ঋক্ষশৈলীর সভাপতি সুলতানা পারভীন মুক্তা, ভাইস প্রেসিডেন্ট হাবিবা সুলতানা, সাধারণ সম্পাদক কাকলী আলম, চিফ অপারেটিং ডিরেক্টর ফারহানা হোসেন মিতা এবং কো-অর্ডিনেটর আরবী শারমিন উপস্থিত ছিলেন। প্ল্যানিং ড্রিমের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডলি আহমেদ ও সাজিদ বিন ইফতেখার পিয়াস।
ঋক্ষশৈলীর সভাপতি সুলতানা মুক্তা এই অনুষ্ঠানে বলেন, খোলা আকাশের নীচে মাত্র ৩ ঘন্টাতে অগনিত মানুষের সামনে নিজ পন্যকে উপস্থাপন এবং বিক্রয়ের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের আত্মবিশ্বাসকে আরও এক ধাপ এগিশে নিয়ে যেতে পেরেছি এটাই আমাদের স্বস্থির বিষয়। বেশ আনন্দ মুখোর ছিলো পুরোটো সময়।”
আয়োজকদের মতে, সীমিত সময়ের মধ্যেও এই আয়োজন উদ্যোক্তাদের জন্য কার্যকর একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যেখানে তারা সরাসরি ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পেরেছেন। এতে নতুন উদ্যোক্তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ার পাশাপাশি নিজেদের পণ্য সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
প্ল্যানিং ড্রিমের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডলি আহমেদ জানান, বৈশাখী উৎসবের চারদিনব্যাপী মূল আয়োজনেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেছিলেন, যা উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধিরই ইঙ্গিত দেয়। তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রদর্শনীটি খোলা আকাশের নিচে অনুষ্ঠিত হলেও অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও দর্শনার্থীদের আগ্রহ পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
উদ্যোক্তারা জানান, সরাসরি ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়ার সুযোগ তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তাদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি কার্যকর নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে, যা ভবিষ্যতে উদ্যোক্তা খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তাই ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করার প্রত্যাশা রাখেন সংশ্লিষ্টরা।
ফিয়াদ নওশাদ ইয়ামিন
- মসজিদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থান।

