সম্প্রতি শিশু ধর্ষণকারী মস্তিস্ক বিকৃত ট্রাম্পের একটা ঘোষণা শোনার পর অনেকেই উদ্বিগ্ন প্রকাশ করছেন এন্ড ভয় পাচ্ছেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, এর বিপরীতে ইরানের নিজস্ব প্রতিক্রিয়া কি?
সর্বশেষ আপডেট অনুসারে ইরান অসুস্থ ট্রাম্পের দেওয়া ডেডলাইন (আজ রাত ৮টা ওয়াশিংটন সময়) সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলে দিয়েছে, স্ট্রেইট অব হরমুজ তারা আর খুলবে না। সেই সাথে ইরান ট্রাম্পের ভিক্ষা চাওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি (যেমন ৪৫ দিনের) প্রত্যাখ্যান করে স্থায়ী শান্তি চুক্তি দাবি করেছে। তারা পাকিস্তানের মাধ্যমে ১০ দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যাতে রয়েছে: যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি, অবৈধ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, হরমুজে নিরাপদ চলাচলের প্রোটোকল ইত্যাদি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ইরানের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমান্ডের জেনারেল আলি আবদুল্লাহি আলিয়াবাদি বলেছেন, ট্রাম্পের হুমকি হেল্পলেস, নারভাস, আনব্যালান্সড এন্ড স্টুপিড। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, the gates of hell will open for you (জাহান্নামের দরজা তোমাদের জন্য খুলে যাবে)।
এরপর IRGC নেভি বলেছে, স্ট্রেইট অব হরমুজ আর কখনো আগের অবস্থায় ফিরবে না, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য (যা আমি মনে প্রাণে কামনা করি)। তারা নতুন পার্সিয়ান গালফ অর্ডার এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এছাড়া ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদি তাবাতাবাই বলেছেন যে, হরমুজ খোলার সাথে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি যুক্ত করা হবে (যেমন ট্রানজিট ফি থেকে কিছু অংশ ক্ষতিপূরণ হিসেবে ব্যবহার)।
সেইসাথে ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, যদি বেসামরিক অবকাঠামোতে (বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সেতু) হামলা হয়, তাহলে প্রতিক্রিয়া অঞ্চলের বাইরেও ছড়িয়ে পড়বে এবং মাচ মোর ডিভাস্টেটিং হবে।
আর মজার ব্যাপার হলো, কয়েকটি ইরানি দূতাবাস সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পকে ট্রোল করেছে। যেমন, We’ve lost the keys (চাবি হারিয়ে ফেলেছি)। এমনটা তারা মাঝে মাঝেই করে।
সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল কর্তৃক ইরানের ওপর চালানো এই নৃশংস ও উসকানিমূলক আগ্রাসন ও সাম্রাজ্যবাদী গুণ্ডামির বিরুদ্ধে ইরান দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। তারা কাপুরুষিত আত্মসমর্পণ বা অস্থায়ী যুদ্ধ বিরতি মানতে নারাজ এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ স্থায়ী সমাধান চায়। একই সাথে তারা প্রতিশোধের হুমকি দিয়ে রেখেছে।
তবে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত ঘোলাটেপূর্ণ। ট্রাম্পের আজকের ডেডলাইন শেষ হওয়ার পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় বড় ধরনের ঘটনা ঘটলেও ঘটতে পারে। তবে আমার গাট ফিলিং বলছে, ট্রাম্পের যেকোনো আক্রমণের পাল্টা জবাব দিতে, বিশেষ করে নিউক্লিয়ার আক্রমণ, (যদি সত্যিই তা করার ধৃষ্টতা দেখায়), ইরানের কাছেও নিশ্চয় কোনো না কোনো পাল্টা ব্যবস্থা রয়েছে। নয়তো একটা মস্তিস্ক বিকৃত ব্যক্তির হুমকির পরও এতটা ভাবলেশহীন প্রতিক্রিয়া তারা দেখাতো না।
- ছবি সংগৃহীত