পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী Mir Helal Uddin সম্প্রতি বাংলাদেশের Ministry of Land (Bangladesh)–এর দায়িত্ব পাওয়ায় তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে সামাজিক সংগঠন Sarbabhoumotto Surakkha Parishad। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে Chittagong Hill Tractsসহ দেশের বিভিন্ন জাতীয় ইস্যু নিয়ে কাজ করে আসছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, পার্বত্য অঞ্চলের ভূমি সংক্রান্ত সমস্যা এই এলাকার সবচেয়ে বড় ও জটিল ইস্যুগুলোর একটি। তাই ভূমি মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এমন একজনের হাতে যাওয়ায় তারা আশাবাদী, যিনি একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী এবং আগে থেকেই পাহাড়ের বাস্তবতা ও সমস্যার সঙ্গে পরিচিত।
তাদের মতে, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের নতুন দায়িত্ব পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াকে দ্রুত এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি পাহাড়ে ভূমি জরিপ কার্যক্রম জোরদার করা, ভূমি রেকর্ড সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা এবং Chittagong Hill Tracts Land Dispute Resolution Commission–এর কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। এতে পাহাড়ে বসবাসকারী বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের ন্যায্য সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় সংগঠনের নেতারা আরও বলেন, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালকে ঘিরে তথাকথিত ৩৫ জন পাহাড়ি বিশিষ্টজনের নামে একটি সংগঠন এবং উগ্রবাদী নেতা Ushatan Talukder–এর স্মারকলিপির মাধ্যমে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ষড়যন্ত্রমূলক ও বিভ্রান্তিকর। এ ধরনের সংবাদ সম্মেলনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ।
সংগঠনটি আরও উল্লেখ করে, একটি মন্ত্রণালয় সব জনগোষ্ঠীর জন্য। এটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত থাকতে পারে না। কোনো বৃহৎ জনগোষ্ঠী—বিশেষ করে বাঙালিদের—মধ্যে বঞ্চনার অনুভূতি তৈরি হলে তা দীর্ঘমেয়াদে পাহাড়ে অস্থিরতার কারণ হতে পারে।
তারা বলেন, Dipen Dewan ও মীর হেলালের সমন্বয় মূলত একটি “চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স” বা ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি করবে। যেখানে একজন পাহাড়ের আবেগ ও ঐতিহ্য রক্ষা করবেন এবং অন্যজন প্রশাসনিক কাঠামোকে আধুনিকায়ন ও আইনি ভিত্তি প্রদান করবেন। এই সমন্বিত উদ্যোগ পাহাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে Tarique Rahman–কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলা হয়, তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। সংবিধানের ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯ ও ৪১ নম্বর অনুচ্ছেদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিনি পার্বত্য অঞ্চলে নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের প্রায় এক–দশমাংশ ভূখণ্ডজুড়ে বিস্তৃত পার্বত্য চট্টগ্রামের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের মতো অভিজ্ঞ আইনজীবী ও দক্ষ ব্যক্তির নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংগঠনটি আশা করছে।
- ছবি সংগৃহীত