সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেনাবাহিনী এবং তার পদোন্নতি ও সম্মানকে কেন্দ্র করে চিরচেনা কুচক্রী মহল বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বিএমএ-এর ৮৯তম দীর্ঘমেয়াদী কোর্সে ‘সোর্ড অব অনার’ প্রাপ্ত একজন ক্যাডেটকে নিয়ে। অভিযোগকারীরা বলছেন, তিনি সাবেক ডিজিএফআই প্রধান ও পলাতক আসামি জেনারেল হামিদের সন্তান, তাই বাবার অপরাধের দায়ে তাকে সম্মান দেওয়া অনুচিত।
এই বিতর্ককে শুধু আবেগের আলোকে বিচার করা বা অনুমানের ভিত্তিতে গুজব ছড়ানো এক ধরনের অনৈতিকতা। আসুন বিষয়টিকে ইসলাম, ন্যায়বিচার এবং সামাজিক বাস্তবতার আলোকে বিশ্লেষণ করি।
ইসলামের মূল নীতি হলো, “কেউ অন্যের গুনাহ বহন করবে না।” (সূরা আন‘আম: ১৬৪) এবং “প্রত্যেক মানুষ তার নিজের কাজের জন্য দায়বদ্ধ।” (সূরা মুদ্দাসসির: ৩৮)। অর্থাৎ পিতা যদি অপরাধী হন, তার শাস্তি হবে তার নিজের জন্য, সন্তানকে নয়। সুতরাং, জেনারেল হামিদের সন্তান যদি নিজ যোগ্যতা, পরিশ্রম ও দক্ষতার মাধ্যমে বিএমএ-তে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে, তাকে বঞ্চিত করা ইসলামের নীতি ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
দীর্ঘদিন ধরে যারা সেনাবাহিনী নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে, তারা এই ইস্যুতে সবচেয়ে সক্রিয়। তারা সেনাবাহিনীকে তাদের মতাদর্শ অনুযায়ী চলতে চাইছেন, অথচ বাস্তবতা হলো সেনাবাহিনী চলবে নিজের নিয়ম, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে। কোনো অনলাইন কুচক্রি মহল এর কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করতে পারে না।
সেনাবাহিনীর পদোন্নতি ও সম্মান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ মেধা, পরিশ্রম ও দক্ষতার উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। যদি কোনো ক্যাডেটের অর্জনকে তার বাবার পরিচয়ের কারণে খাটো করা হয়, তাহলে সেটাই হবে ক্ষমতার অপব্যবহার। পেশাদারিত্বের মূল মান হলো নিরপেক্ষতা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন।
অনেকে যুক্তি দেন, অতীতে ফ্যাসিবাদের সময় অনেক যোগ্য কর্মকর্তা বঞ্চিত হয়েছেন। কিন্তু সেই অতীত অন্যায়কে নতুন অন্যায়ের কারণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। অন্যায় করলে আমরা কি নতুন জালেমের ভূমিকা নিচ্ছি? ইসলাম প্রতিশোধ নয়, ন্যায়পরায়ণতা ও ব্যক্তিগত দায়িত্বকে মূল্য দেয়।
আমরা চাই এমন একটি সমাজ, যেখানে বিচার হবে ব্যক্তির যোগ্যতা ও কর্মফলের ওপর, বাবার পরিচয় নয়। আবেগ বা অনুমানের ভিত্তিতে কারো অর্জনকে খাটো করা সামাজিক ও নৈতিক দিক থেকে অগ্রহণযোগ্য।
সেনাবাহিনী যেন মেধা, যোগ্যতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। গুজব ও ব্যক্তিগত বিদ্বেষের চাপে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা উচিত নয়। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, অপরাধ যার, শাস্তি তার, আর যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্মান পাওয়া অবশ্যই ন্যায়পরায়ণতা।
আসুন, আবেগ নয়, বিবেক ও ন্যায়বিচারকে প্রাধান্য দিই। জুলুমের বদলে ইনসাফ প্রতিষ্ঠাই হোক আমাদের লক্ষ্য।
- ছবি সংগৃহীত