• প্রতিষ্ঠার দেড় বছর পূর্তি উপলক্ষে শনিবার ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ রাজধানীর মেরাদিয়া বাগানবাড়ি হক ব্যাংকুয়েট ক্লাবে ডিপিএল এর ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য সেলিব্রেশন প্রোগ্রাম। শতাধিক কর্মকর্তা ও সদস্যের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে নেতৃত্ব দেন চেয়ারম্যান ড. মোঃ শামসুদ্দোহা। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোঃ কামরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত এজিএম ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মহিউদ্দিন আল আপন। বক্তারা বলেন নেটওয়ার্ক মার্কেটিংকে একটি ইতিবাচক ও টেকসই কর্মসংস্থানমুখী খাতে রূপ দিতে ডিপিএল কাজ করছে এবং ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তরুণদের মধ্যে উদ্যোক্তা সৃষ্টির নতুন ধারা তৈরি হয়েছে।

দেশে যখন শিক্ষিত তরুণদের বড় একটি অংশ বেকারত্ব আর অনিশ্চয়তার দোলাচলে দিন কাটাচ্ছে তখন বিকল্প কর্মসংস্থানের বাস্তব মডেল হিসেবে সামনে আসছে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং বা মাল্টি লেভেল মার্কেটিং। ব্যক্তিগত পরিচিতি ও নেটওয়ার্কভিত্তিক এই ব্যবসা পদ্ধতিতে উৎপাদনকারী থেকে সরাসরি ভোক্তার হাতে পণ্য পৌঁছে যায় ফলে মধ্যস্বত্বভোগী কমে যায় এবং বিক্রয় ও টিম গঠনের মাধ্যমে কমিশনভিত্তিক আয় তৈরি হয়। স্বাস্থ্য প্রসাধনী প্রযুক্তি ও গৃহস্থালীর পণ্যে বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠিত এই মডেল বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। অল্প পুঁজিতে শুরু করা যায় নিজের সময় নিজের মতো নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং বিক্রয় মার্কেটিং ও নেতৃত্বের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থাকায় অনেক তরুণ এখন এটিকে চাকরির বিকল্প নয় বরং উদ্যোক্তা হওয়ার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন সঠিক কোম্পানি নির্বাচন ও পিরামিড স্কিম থেকে সতর্ক থাকা জরুরি।

 

এই প্রেক্ষাপটে দেশের বাজারে সংগঠিত ও নীতিনিষ্ঠ নেটওয়ার্ক মার্কেটিং প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ডিপিএল ঢাকা প্রোডাক্ট লিমিটেড। দেশীয় পণ্য উৎপাদন ও বিপণনের মাধ্যমে তরুণদের উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিকভাবে ক্লিনিং আইটেম বাজারজাত করলেও ভবিষ্যতে খাদ্য ও গৃহস্থালীর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেশেই উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. মোঃ শামসুদ্দোহা সিনিয়র সচিব ও অতিরিক্ত আইজিপি অবসরপ্রাপ্ত তার দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একটি স্বচ্ছ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ ব্যবসা কাঠামো গড়ে তুলেছেন। তার লক্ষ্য তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয় উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে অর্থনীতিতে অবদান রাখা।

 

কোম্পানি সূত্রে জানা যায় অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা শিক্ষক শিক্ষার্থী ও হাজারো তরুণ তরুণী ডিপিএল এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছেন। নিয়মিত ট্রেনিং সেমিনার ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালার মাধ্যমে সদস্যদের পেশাগত সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। ব্যবসার পাশাপাশি কর্মকর্তাদের নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্যুর আয়োজন করা হয় যাতে দলগত সমন্বয় ও প্রেরণা বৃদ্ধি পায়। দেড় বছর পূর্তির এই সেলিব্রেশন ছিল সেই ধারাবাহিক কর্মসূচিরই অংশ।

 

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পিত উৎপাদন নৈতিক বিপণন ও তরুণবান্ধব উদ্যোক্তা কাঠামো ধরে রাখতে পারলে ডিপিএল ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নেটওয়ার্ক মার্কেটিং খাতে একটি মানদণ্ড হয়ে উঠতে পারে। চাকরির বাজারে দীর্ঘ লাইনের ভিড়ে দাঁড়িয়ে না থেকে নিজস্ব ব্যবসা গড়ার যে স্বপ্ন তরুণরা দেখছে ডিপিএল সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে। দেশের অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থান ও দেশীয় পণ্যের বিস্তারের এই উদ্যোগ অনেকের কাছে সত্যিই এক নতুন বসন্তের সূচনা।

ফিয়াদ নওশাদ ইয়ামিন 

  • ছবি সংগৃহীত