গোলাম মুস্তফা,ক্যাম্পাস প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের বৃহৎ ও বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (IIUC)-এর বর্তমান বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, যিনি জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান মাওলানা শামসুল ইসলামের অসুস্থতার কারণে বর্তমানে প্রায় সকল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তই তার হাতেই কেন্দ্রীভূত হয়েছে।

দুঃখজনক হলেও সত্য, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় নীতি-নৈতিকতা বা গণতান্ত্রিক রীতি অনুসরণ না করে আঞ্চলিকতা, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। নিয়োগপ্রক্রিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন দায়িত্ব বণ্টনে তিনি নিজের পছন্দের ও নিজ অঞ্চলের লোকদের অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, যা একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য চরম উদ্বেগজনক।

জুলাই বিপ্লবের সময় যেসব শিক্ষক ও কর্মকর্তা আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন, বিপ্লবের পরপরই ছাত্রদের দাবির প্রেক্ষিতে তাদেরকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ধীরে ধীরে তাদের সরিয়ে দিয়ে শাহজাহান সিন্ডিকেটের ঘনিষ্ঠ এবং একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের ব্যক্তিদের পুনর্বাসন করা হয়েছে—যাদের অনেকেই অতীতে ফ্যাসিবাদীদের সহযোগী ছিলেন। এই পদক্ষেপ শুধু merit বা ন্যায্যতার পরিপন্থী নয়, বরং বিপ্লবের চেতনারও অবমাননা।

এমনকি এই সিন্ডিকেটের অন্তর্ভুক্ত কিছু শিক্ষক ও কর্মকর্তারা তাদের সহকর্মীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করছেন, অথচ এসব ঘটনার কোনো বিচার হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক নিয়মবহির্ভূত নিয়োগও এই সিন্ডিকেটের প্রভাবে সম্পন্ন হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, EEE ডিপার্টমেন্টে নিয়ম না মেনে একজন সহকারী অধ্যাপককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার বেতন বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণ অধ্যাপকদের থেকেও বেশি! শুধু নিয়োগেই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ব্যয় ব্যবস্থাপনায়ও এই সিন্ডিকেটের দুর্নীতির অভিযোগ ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে।

দ্রষ্টব্য যে, মোহাম্মদ শাহজাহানের শ্যালক হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাহেদ হোসেন ভূঁইয়া, যিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে অনার্স শেষ করে বর্তমানে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামে বিবিএ বিভাগের শিক্ষক হিসেবে পাঠদান করছেন! আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শফিউল আলম গত এক বছর থেকে অফিসে অনুপস্থিত থেকেও বেতন ভাতা সবই পাচ্ছেন শুধুমাত্র এই সিন্ডিকেটের সদস্য হওয়ার কারণে। তিনি চাকরিতে বহাল থেকেই চট্টগ্রাম ১১ আসনে জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থী হয়েছেন!

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ও সচেতন শিক্ষক-কর্মকর্তারা এই সিন্ডিকেটের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত হলেও, হেনস্তা এবং চাকরিচ্যুতির আশঙ্কায় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস করছেন না।  

এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও নীতিনিষ্ঠভাবে পরিচালনার জন্য বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ থেকে মোহাম্মদ শাহজাহানকে অপসারণ করা অত্যন্ত জরুরি।  

এ বিষয়ে আমরা ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

  • ছবি সংগৃহীত