পবিত্র রমজান মাসে দেশের স্কুলসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন তেজগাঁও, নাখালপাড়া ও ফার্মগেট এলাকার সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি, বুধবার দুপুর ১২টায় রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের তিব্বত মোড়ে “তেজগাঁও, নাখালপাড়া ও ফার্মগেট এলাকার সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমান”-এর ব্যানারে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, পবিত্র রমজান মাস তাকওয়া অর্জনের মাস। এ মাসে রোজা পালন, তারাবির নামাজসহ বিভিন্ন ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি ও নৈতিকতার চর্চা হয়। কিন্তু বিদ্যালয় খোলা থাকায় শিক্ষার্থীরা যথাযথভাবে রোজা পালন ও ইবাদত করতে পারছে না।
অভিভাবক মুহম্মদ পথিক বলেন, “মহান আল্লাহ তায়ালা রমজান মাস দিয়েছেন তাকওয়া অর্জনের জন্য। তাকওয়ার মাধ্যমেই মানুষের নীতি-নৈতিকতা গড়ে ওঠে। শিশু বয়সেই যদি দ্বীনি চর্চার সুযোগ তৈরি করা যায়, তবে তারা ভবিষ্যতে একজন পরিশুদ্ধ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।”
অন্য অভিভাবক মুহম্মদ আনোয়ার হুসাইন বলেন, “শিশু কাঁচা মাটির মতো। এই বয়সেই তার মধ্যে দ্বীনি অনুশীলনের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু রমজান মাসে নিয়মিত ক্লাসের কারণে তারা রোজা রাখতে কষ্ট পায় এবং তারাবির নামাজ আদায় করতে পারে না। ফলে তারা নৈতিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “বর্তমান তরুণ সমাজে নৈতিক অবক্ষয় স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান, যা রোধে রমজান মাসে দ্বীনি চর্চার পূর্ণ সুযোগ দেওয়া জরুরি।”
অভিভাবক মুহম্মদ ফরিদ বলেন, “বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ৯৮ শতাংশ মুসলমান। পবিত্র রমজান মাসে ছুটি পাওয়া মুসলিম শিক্ষার্থীদের দ্বীনি ও সাংবিধানিক অধিকার। অথচ অমুসলিমদের বিভিন্ন ধর্মীয় দিবসে স্কুলে ছুটি দেওয়া হলেও মুসলমানদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় মাসে ছুটি দেওয়া হচ্ছে না, যা চরম বৈষম্যমূলক।” তিনি আরও বলেন, “অমুসলিমদের পূজা-পার্বণে মুসলমান শিক্ষার্থীদের ছুটির প্রয়োজন না থাকলেও নিয়মিত ছুটি দেওয়া হয়। এমনকি ইউরোপ-আমেরিকার মতো অমুসলিম প্রধান দেশেও মুসলমানদের ধর্মীয় দিবসে ছুটি দেওয়া হয় না। তাহলে আমাদের দেশে কেন এই বৈষম্য থাকবে?”
সমাবেশে বক্তারা স্মরণ করিয়ে দেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে রমজান মাসে ছুটি না দেওয়ায় দেশব্যাপী ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে রমজান মাসে বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হলেও ২০২৬ সালে আবার রোজার মধ্যে ক্লাস চালু করায় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিভাবকরা বলেন, “রমজান মাসে কলেজ বন্ধ থাকলেও শিশুদের স্কুল খোলা রাখা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। বরং শিশুদের জন্যই রমজানে ছুটি বেশি প্রয়োজন।” তারা আরও দাবি করেন, রমজানের প্রস্তুতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অন্তত রমজান শুরুর সাত দিন আগেই স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা উচিত।
সমাবেশ শেষে অভিভাবকরা অবিলম্বে পবিত্র রমজান মাসে স্কুলসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে ছুটি ঘোষণার জোর দাবি জানান।
- ছবি সংগৃহীত