বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাল সনদে শিক্ষকতার অভিযোগ বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিবন্ধন সনদ যাচাই কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এ কার্যক্রমে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে গাজীপুর, নরসিংদী ও ভোলা—এই তিন জেলার সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের তথ্য ও সনদ যাচাই করা হবে। পাইলট কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরবর্তীতে দেশের সব জেলার প্রায় ৩৬ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিবন্ধন সনদ পর্যায়ক্রমে পরীক্ষা করা হবে।
এনটিআরসিএ’র সহকারী পরিচালক ফয়জার আহমেদ জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে জাল নিবন্ধন সনদ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জাল সনদধারীদের শনাক্ত করতে এই যাচাই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
এনটিআরসিএ’র এক জরুরি নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত ছকে সব এমপিওভুক্ত শিক্ষকের তথ্য, শূন্য পদের বিবরণ, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের এমপিও শিট এবং নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত রঙিন কপি আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে এনটিআরসিএ কার্যালয়ে পাঠাতে হবে। এসব কাগজপত্র প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সভাপতির স্বাক্ষরসহ পাঠাতে হবে।
সংস্থাটি সতর্ক করেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য না পাঠালে, তথ্য গোপন করলে বা সনদে কোনো ধরনের জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলোকে অবহিত করা হবে।
এই নির্দেশনার অনুলিপি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের তাদের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য সময়মতো পাঠানো নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।





