অভ্যুত্থানের পরও নির্বাচন কমিশনের কোনো সংস্কার না হওয়া, হাইকোর্টের রায় সত্ত্বেও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনকে নিবন্ধন না দেওয়া এবং সর্বশেষ দলের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূমের স্বতন্ত্র প্রার্থিতা বাতিল—এই তিনটি ঘটনাই একই সূত্রে গাঁথা বলে অভিযোগ করেছে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।
শনিবার ঢাকার তোপখানা রোডের মেহেরবা প্লাজার দলীয় প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, আসন্ন নির্বাচন কেবল একটি জাতীয় নির্বাচন নয়; একইসঙ্গে এটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের নির্বাচন হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সংবিধান সংস্কার পরিষদের নির্বাচন বিশ্বে একটি বিরল রাজনৈতিক ঘটনা এবং এই নির্বাচনের তাত্ত্বিক ভিত্তি রচনা করেছে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। কিন্তু বর্তমান নির্বাচন কমিশন পতিত হাসিনা সরকারের সময়কার নির্বাচন কমিশনের মতো আচরণ করছে। তারা ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের মতো বিতর্কিত নির্বাচন আয়োজনের দিকেই এগোচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন বলেন,
“বাংলাদেশে সংস্কারপন্থি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কাণ্ডারি হলেন হাসনাত কাইয়ূম। সংবিধান সংস্কারের নির্বাচনী ধারণার প্রবর্তক রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। দ্বিদলীয় ব্যবস্থা থেকে উত্তরণে তৃতীয় শক্তির উত্থান ঠেকাতেই পরিকল্পিতভাবে আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করা হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় সভাপতির স্বতন্ত্র প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, হাইকোর্টের রায় সত্ত্বেও দলকে নিবন্ধন না দেওয়ার প্রতিবাদে সকল আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হাসনাত কাইয়ূম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন। কিন্তু ভোটার স্বাক্ষর যাচাইয়ের সময় পুলিশ নিয়ে প্রান্তিক সমর্থকদের বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন,
“সমর্থক বাড়িতে না থাকলে তার বৃদ্ধা মাকে ভয় দেখিয়ে স্বাক্ষর অস্বীকার করানো হয়েছে। বৃদ্ধা মায়ের ভয়ভীতির স্বীকারোক্তিকে ভিত্তি করে সমর্থন বাতিল করা হয়েছে—এটি পতিত হাসিনা সরকারের নির্বাচন কমিশনের আচরণের পুনরাবৃত্তি।”
নেতারা অভিযোগ করেন, এই নির্বাচন কমিশন একটি ইতিহাসের নিকৃষ্ট নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে পুনরায় হাসিনাতন্ত্র ফিরিয়ে আনার পথ তৈরি করছে। তবে তারা স্পষ্ট করে বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমেও এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান সেলিম, সহ-সভাপতি এ জেড নিজামউদ্দিন ঠাকুর, স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক সাহাবুদ্দিন কবিরাজ লিটন, দপ্তর সম্পাদক ছামিউল আলম রাসু, মিডিয়া সম্পাদক এহসান আহমেদ, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মামুন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল হক সুমন, প্রচার ও প্রচারণা সহ-সম্পাদক মোহাম্মদ শামসুদ্দিন (রাকিব)সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।





