চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার জন্য উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র (ওপেন টেন্ডার) আহ্বান না করে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) প্রক্রিয়ায় এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়ে নীতিনির্ধারণী মহল ও সংশ্লিষ্ট খাতে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের সুযোগ না থাকায় বাংলাদেশ সম্ভাব্য সর্বোত্তম বিনিয়োগ, আর্থিক সুবিধা ও পরিচালন শর্ত নিশ্চিত করার সুযোগ হারাতে পারে।
তাদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক মানের উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ টার্মিনাল অপারেটরকে অংশগ্রহণের সুযোগ দিলে একাধিক প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তাব পাওয়া সম্ভব হতো। এতে বিনিয়োগের পরিমাণ, রয়্যালটি, রাজস্ব ভাগাভাগি এবং অন্যান্য চুক্তির শর্ত তুলনামূলকভাবে আরও অনুকূল হওয়ার সম্ভাবনা থাকত।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, জিটুজি পদ্ধতিতে সরাসরি একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে চুক্তির ক্ষেত্রে বাজারভিত্তিক প্রতিযোগিতা সীমিত হয়ে যায়। ফলে সরকার দরকষাকষির ক্ষেত্রে তুলনামূলক দুর্বল অবস্থানে পড়তে পারে এবং বিকল্প প্রস্তাব মূল্যায়নের সুযোগও সংকুচিত হয়।
এছাড়া একটি নির্দিষ্ট দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি চুক্তির উদ্যোগকে কেউ কেউ ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। তাদের মতে, বাংলাদেশের মতো কৌশলগত অবস্থানে থাকা দেশের জন্য বড় অবকাঠামো প্রকল্পে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ আরও মনে করেন, চুক্তির আর্থিক ও কারিগরি শর্ত, সম্ভাব্য রাজস্ব কাঠামো, বিনিয়োগের পরিমাণ এবং ঝুঁকি বণ্টনের বিষয়গুলো জনসম্মুখে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হলে বিতর্ক অনেকাংশে কমে আসতে পারে। একই সঙ্গে স্বাধীন মূল্যায়ন, অডিট এবং সংসদীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যালোচনার মাধ্যমে চুক্তির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মূল্যায়নেরও সুপারিশ করছেন তারা।
তাদের মতে, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার হওয়ায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা এবং জাতীয় স্বার্থের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।




