আমেরিকার সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল সহ ৭ দফা দাবিতে সমাবেশ

Picture of নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

সন্ত্রাসী আমেরিকার সাথে গোপনে করা বাণিজ্য চুক্তিকে দেশ বিরোধী ও ঈমান বিরোধী ঘোষণা করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতা। আজ ৮ মে ২০২৬ তারিখ, রোজ জুময়াবার পবিত্র জুমার নামাজের পর রাজধানী ঢাকার মালিবাগ মোড়ে ফালইয়াফরাহু চত্বরে এক বিশাল সমাবেশে তারা এই দাবি জানান। সমাবেশে আলোচকগণ মোট ৭টি দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো হলো—

১. আমেরিকার সাথে গোপনে করা বাণিজ্যচুক্তি কিছুতেই বলবৎ রাখা যাবে না। গেপানে এই চুক্তি করেছিলো সুদখোর লাওওয়াত্ব ইউনুস। এই চুক্তির মাধ্যমে গোপনে কৌশলে দেশকে আমেরিকার দাসত্বের শৃঙ্খলে বন্দি করার ফন্দি করা হয়েছে। চুক্তিপত্রে কেবল পণ্যের শুল্ক নয়, বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ও নিয়ন্ত্রণকাঠামো ঢেলে সাজানোর বাধ্যবাধকতার কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ইতিমধ্যে এই চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট হয়েছে। অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোক্যাল ট্রেড শীর্ষক এই চুক্তিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই চুক্তির মাধ্যমে শতকরা ৯৮ ভাগ মুসলমানের এই দেশে শুকরের গোশত আমদানি করার সুযাগ প্রদান করা হয়েছে। কিছুতেই এই দেশে শুকরের গোশতের আমদানি করা যাবে না। দেশের অনেক রেস্তোরা, হোটেল বা ক্যান্টিনগুলোতে গরুর গোস্ত রাখা হয়না। সমস্ত হোটেলে বাধ্যতামূলক গরুর গোস্ত রাখতে হবে। গরুর গোশতের উপরে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। আমেরিকার সাথে করা গোপনীয় বাণিজ্য চুক্তিসহ লাওয়াত্ব (সমকামী) ইউনুসের করা সমস্ত চুক্তি-অধ্যাদেশ সমূহ বাতিল করতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের চুক্তি করার বা আইন করার কোনো অধিকার ছিলোনা। এই চুক্তির অজুহাতেই উচ্চমূল্য দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে। আমেরিকা থেকে ৩.৭ বিলিয়ন ডলার দিয়ে বোয়িং কেনা হচ্ছে, অথচ ১.৬ বিলিয়ন ডলার বাজেট ঘাটতি মেটাতে এডিবি-জাইকা থেকে কঠিন শর্তে ঋণ নেওয়া হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ধ্বংসাত্মক। তাই বোয়িং কেনার দরকার নেই, কঠিন শর্তে ঋণ নেওয়ারও দরকার নেই। আমেরিকা থেকে বোয়িং কেনার চুক্তি বাতিল করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সন্ত্রাসী প্রেসিডেন্ট ড্রামের (ট্রাম্পের) প্রশাসন কর্তৃক আরোপিত ব্যাপকভিত্তিক বাণিজ্যিক শুল্ক বা ট্যারিফ নীতিগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। এই রায়ের ফলে ড্রামের আরোপিত “রিসিপ্রোকাল” বা পারস্পরিক শুল্কসহ বিভিন্ন ট্যারিফ বাতিল হয়ে গেছে। আর এই বছর মার্চ মাসে মালয়েশিয়ার সরকার আমেরিকার সাথে করা বানিজ্য চুক্তিকে বাতিল ও অকার্যকর বলে ঘোষণা করেছে। দেশের স্বার্থ ও ঈমানের স্বার্থে বাংলাদেশকেও আমেরিকার সাথে করা বানিজ্য চুক্তি বাতির করা ফরজ। সরকারকে আমেরিকার তোষামোদ বাদ দিয়ে দেশের জনগণের সার্বিক কল্যাণ ও উন্নয়নের দিকে নজর দিতে হবে। মার্কিন দালাল রজার খলিলকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অবিলম্বে বহিষ্কার করতে হবে। দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি করে ইউনুস দেশদ্রোহিতা করেছে—তার শরঈ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আর দেশদ্রোহিতার শরঈ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। একই সাথে বর্তমান সরকারকেও নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে সরে আসতে হবে, নতুবা জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে দেশের শৃঙ্খলা ব্যাহত হতে পারে। এই দেশের জনগণ আমেরিকা, ভারত বা কোন রাষ্ট্রের দাসত্ব বরদাশত করেনা। সরকারকে বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে, সাম্রাজ্যবাদীদের কু-বুদ্ধিতে চললে কখনই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে না। আর অর্থনৈতিক উন্নয়ন ছাড়া জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি সম্ভব নয়। দেশের খনিজ সম্পদ উত্তোলন এবং উৎপাদনশীল খাত বৃদ্ধির মাধ্যমেই দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। দেশের বাণিজ্য আমেরিকার হাতে তুলে দেয়ার কুটকৌশলকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোজার খলীল, বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির গংদেরকে অবিলম্বে বহিষ্কার করে জবাবদিহিতা ও বিচারের আওতায় আনতে হবে। এরা সরকারকে বিতর্কিত করতে চায়। এরা বিদেশীদের দালাল। দেশের ও সরকারের স্থিতিশীলতার জন্য এইসব বেঈমান দালালদেরকে বিচারের আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানাচ্ছি। জনগণকে অন্ধকারে রেখে দেশবিরোধী চুক্তি করা যাবেনা।

২. বাংলাদেশের বন্দর, খনিসহ দেশের যেকোন স্থান বা সম্পত্তি বিদেশীদের কাছে বিক্রি করা বা ইজারা যাবে না। ডিপ ওয়ার্ল্ড, এবিপিএন, মেডলগ ইত্যাদি বিদেশী বন্দরদস্যুদের সাথে করা চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। বন্দর বিদেশীদেরকে দেয়ার অর্থ হচ্ছে দেশকে বিদেশীদের হাতে জিম্মি করে দেয়া্ যা দেশের অর্খনীতি, নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বের জন্য ভয়ানক হুমকি। এ দেশের বন্দর বিদেশীদেরকে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্রকারী লাওওয়াত্ব ইউনুসের তথা আমেরিকার দালাল বন্দরের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান, বিডার চেয়ারম্যান আশিক এদেরকে বহিষ্কার করতে হবে। 

৩. নারিকেল দ্বীপ সারা বছর সবার জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। পরিবেশের অজুহাতে লাওওয়াত্ব ইউনুসের পরিবেশ উপদেষ্টা রেজওয়ানা নারিকেল দ্বীপকে অবরুদ্ধ করে দ্বিতীয় গাজা বানিয়েছিলো। বর্তমান পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু রেজওয়ানার শয়তানি সিদ্ধান্ত বহাল রাখার কথা বলেছে। অবিলম্বে রেজওয়ানাকে গ্রেফতার করতে হবে এবং পরিবেশমন্ত্রীকে বহিষ্কার করতে হবে। এদরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে, এরা নারিকেল দ্বীপকে জনশূন্য করার ষড়যন্ত্রকারী। এই দ্বীপে ক্ষুদ্র সেনানিবাস স্থাপন করতে হবে।

৪. উপজাতিদেরকে কখনই আদিবাসী বলা যাবে না। পাহাড়ের রাজাপ্রথা বিলুপ্ত করতে হবে। পাহাড়ে ও সমতলে ভূমিসহ সর্বক্ষেত্রে একই আইন করতে হবে। একদেশে দুই আইন বা দুই প্রথা চলতে পারেনা।

৫. হাম নিয়ে অপপ্রচার বন্ধ করতে হবে এবং এই অপপ্রচারের আড়ালে বিদেশী ড্রাগস কোম্পানী ও ইউনিসেফের টিকার ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। সরকার ৬০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ বরাদ্দ দিয়ে দ্রুততম সময়ে হামের টিকা সংগ্রহের ব্যবস্থা নিয়েছে। দেশের মানুষের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে দিয়ে টিকার নামে বিদেশে টাকা পচার করা যাবেনা।

৬. পশ্চিমবঙ্গের উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি নেতা কুভেন্দুর বাংলাদেশ বিরোধী এবং মুসলমান বিরোধী উগ্র বক্তব্যের জন্য বাংলাদেশ থেকে নিন্দা জানাতে হবে। ভারত সরকারকে মুসলিম বিদ্বেষী যাবতীয় কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য চাপ দিতে হবে। কুভেন্দুকে তার বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে অন্যথায় তাকেও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। মুসলমানদের এক হয়ে সমস্ত মুসলিম বিদ্বেষীদেরকে প্রতিহত করতে হবে। বিজেপির মদদপুষ্ট আরএসএস, ভিএইচপি, শিবসেনা, গৌ-রখিয়া ইত্যাদি সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো ভারতে সরকারী সমর্থনে বিভিন্ন প্রদেশে মুসলমানদেরকে জুলুম করে যাচ্ছে। ভারত সরকারকে অবিলম্বে মুসলমানদের প্রতি জুলুম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং মুসলমানদেরকে সম্মান ও নিরাপত্তা দিতে হবে। ভারত যেন উগ্র হিন্দুত্ববাদ পরিহার করে নচেৎ কলকাতাসহ পুরো ভারত দখল করার জন্য পাকিস্তানই যথেষ্ট। পৃথিবীর সমস্ত মুসলমান একটি দেহের মত। তাই ভারতসহ পৃথিবীর কোথাও মুসলমানদের জুলুম করলে তা বরদাশত করা হবেনা। কাফির মুশরিকদের মনে রাখতে হবে ভারতকে শায়েস্তা করার জন্য পাকিস্তানই যথেষ্ট, ইসরাইল-আমেরিকাকে শায়েস্তা করার জন্য ইরানই যথেষ্ট আর ইউরোপকে শায়েস্তা করার জন্য তুরস্কই যথেষ্ট। আর বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বাকি মুসলমানেরাতো আছেই। বাংলাদেশের উগ্র হিন্দুত্ববাদী ইসকনীদের বহিষ্কার করতে হবে, বিশেষ করে ইসকনী সন্ত্রাসী চিন্ময়কে জামিন করার অপচেষ্টাকারী সংস্কৃতিমন্ত্রী ইসকনপন্থী নিতাইকে বহিষ্কার করে তাকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। 

বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তান, ইরান তুরস্কের সম্পর্ক উন্নয়ন করে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে হবে।

 

৭. নওমুসলিমদের নিরাপত্তা দিতে হবে। তাদের জানমালের দ্বায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। আর মুসলমানদেরকে তাচ্ছিল্য করে ‘জঙ্গি’ বলা যাবেনা। কারণ, জঙ্গী শব্দটি পবিত্র শব্দ। জঙ্গী অর্থ পবিত্র জিহাদপ্রিয় ঈমানদার ব্যক্তি। একজন মুসলমান জঙ্গী হতে পারে কিন্তু কখনই সন্ত্রাসী হতে পারেনা। সন্ত্রাসী হচ্ছে হিন্দু-ইহুদিসহ তাবৎ কাফির-মুশরিকরা। মুসলমানদেরকে সন্ত্রাসবাদের নামে দমিয়ে রাখা যাবে না, মাদ্রাসা বন্ধ করা যাবে না।

সরকার যাতে সুশৃঙ্খলভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারে সেই জন্যেই এই দাবীগুলো, এই পরামর্শগুলো জানানো হচ্ছে। এই দাবীগুলো না মানলে কুচক্রী ফিৎনাবাজেরা বিশৃঙ্খলা করার সুযোগ পেতে পারে।

সমাবেশে ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার আহ্বায়ক মুহাম্মদ আরিফ আল খবির, সদস্য সচিব কাজী আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ ফরহাদ আলমসহ সহস্রাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

    About The Author

    নরসিংদীর বেলাবোতে মসজিদ-মাদ্রাসায় হামলা ও ভাঙচুর

    ৩৬ নরসিংদীর বেলাব উপজেলার দুলালকান্দি এলাকার বাঁশবাজার কাঁসার বাপেরবাড়ি জোড়া সুন্নতি জামে মসজিদ ও সংশ্লিষ্ট মুহাম্মদীয়া জামিয়া শরীফ মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে

    Read More »

    নরসিংদীর বেলাবোতে মসজিদ-মাদ্রাসায় হামলা ও ভাঙচুর

    ৬ নরসিংদীর বেলাব উপজেলার দুলালকান্দি এলাকার বাঁশবাজার কাঁসার বাপেরবাড়ি জোড়া সুন্নতি জামে মসজিদ ও সংশ্লিষ্ট মুহাম্মদীয়া জামিয়া শরীফ মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে

    Read More »

    ভোলাহাটের সুরানপুরে হিংস্র কুকুরের হামলা, একের পর এক ছাগল-ভেড়া নিহত

    ৭১ চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার সুরানপুর গ্রামে গত কিছুদিন ধরে হিংস্র কুকুরের আক্রমণে একের পর এক ছাগল ও ভেড়া মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কুকুরের কামড়ে আরও

    Read More »

    নোবিপ্রবিতে বেওয়ারিশ কুকুরের হামলায় আহত দুই শিশু, বাড়ছে উদ্বেগ ও অনিরাপত্তা

    ৫৮ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) সংলগ্ন পকেট গেট এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের হামলায় প্রায় পাঁচ বছর বয়সী দুই শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। আহত শিশুদের

    Read More »

    ‘কওমি মাদরাসা যেন টর্চার সেল’, সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি

    ২৩ সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল একটি রিলে বাংলাদেশে কওমি মাদরাসাগুলোর শিশুদের ওপর নির্যাতনের একটি ভয়াবহ ভিডিওচিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ৬ মিনিটের এই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে,

    Read More »

    বাস-হাইসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১০

    ৫৭ কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার কুদালিয়া এলাকায় বাস ও হাইস মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল আনুমানিক ১০টা

    Read More »

    Table of Contents