কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তুলতে রাজধানীর কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই কর্মশালায় ভবিষ্যৎ পেশাজীবীদের জন্য নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিপিং ও সামুদ্রিক বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগিতায় এবং বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের তত্ত্বাবধানে একটি বেসরকারি সামুদ্রিক পরিদর্শন ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের পেশাগত জীবনে কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার ধারণা প্রদান করা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী জাফরুল্লাহ শরাফাত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এইচ. এম. জাহিরুল হক। অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, নিরাপত্তা সচেতনতা শুধু কর্মক্ষেত্রেই নয়, একটি দায়িত্বশীল ও টেকসই সমাজ গঠনের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চশিক্ষার সঙ্গে নিরাপত্তা সংস্কৃতি যুক্ত না হলে পেশাগত দক্ষতা পূর্ণতা পায় না বলেও তাঁরা মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এ. এস. এম. সিরাজুল হক, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এ. এস. এম. জি. ফারুক, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী আবু তাহের, জনস্বাস্থ্য ও জীবন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ফাজিলাতুন নেসা এবং ব্যবসায় অনুষদের ডিন অধ্যাপক জহুরুল আলম। এ ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এইচ. এম. জাহিরুল হক তাঁর বক্তব্যে আয়োজক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট অনুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ও টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। একইসঙ্গে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এ. এস. এম. সিরাজুল হক বলেন, যেকোনো পেশায় সাফল্যের জন্য নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা সম্পর্কে সচেতনতা অপরিহার্য।
বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী আবু তাহের স্বাগত বক্তব্যে বলেন, নিরাপত্তা কখনোই অবহেলার বিষয় হতে পারে না। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতাই দুর্ঘটনা প্রতিরোধের প্রধান উপায়। শিপিং ও সামুদ্রিক বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন মো. নাসির উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে সমুদ্রজীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, নিরাপত্তা কেবল নিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি একটি মানসিকতা ও জীবনদর্শন। সঠিক সিদ্ধান্ত, দলগত কাজ ও ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা অনেক প্রাণ বাঁচাতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কর্মশালায় প্রশিক্ষকরা কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকি শনাক্তকরণ, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং নিরাপদ কাজের পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বাস্তব উদাহরণ ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বোঝানো হয় যে, নিরাপত্তা নীতিমালা সব পেশা ও সব ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।
অনুষ্ঠানের শেষে প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে স্মারক উপহার প্রদান করা হয় এবং সম্মানিত অতিথিদের সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কর্মশালাটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করেছে।





