বরিশালের মুলাদী উপজেলা-এর সদর ইউনিয়নের দড়িচর লক্ষ্ণীপুর গ্রামে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত চারজনকে বরিশাল শহরের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্য আহতদের মুলাদী উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাকায়েত মল্লিকের ছেলের তৃতীয় জন্মদিন উপলক্ষে শনিবার দুপুরে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে বিএনপির এক পক্ষকে দাওয়াত দেওয়া হলেও একই বাড়ির আরেক পক্ষকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন মল্লিক ও তার ছেলে ইমন মল্লিকের নেতৃত্বে একটি পক্ষ হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।
আহত স্বপন মল্লিক জানান, দুপুরে কয়েকজন ব্যক্তি বাড়িতে এসে শামিয়ানা ও চেয়ার-টেবিল সরিয়ে নিতে বলেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে খবর পেয়ে উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষে স্বপন মল্লিকের পক্ষের সাকায়েত মল্লিক, মনির মল্লিক, স্বপন মল্লিক, ফাইমা বেগম, রাজিব মল্লিকসহ অন্তত ১২ জন আহত হন। অপর পক্ষের মেজবা মল্লিক, আব্দুর রব মল্লিক, মিজান মল্লিকসহ অন্তত ৯ জন আহত হন। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে এক ভ্যানচালকও মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
মুলাদী উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, গুরুতর আহত চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন মল্লিক বলেন, “আমাদের ওপরই হামলা করা হয়েছে। আত্মরক্ষার্থে প্রতিহত করতে গিয়ে সংঘর্ষ হয়।”
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শনিবার দিবাগত রাত পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





