চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই আরও ১২ জন কর্মচারীকে বদলি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
রোববার বন্দরের চিফ পারসোনেল অফিসারের সই করা পৃথক আদেশে এসব বদলি কার্যকর করা হয়। এনসিটি ইজারার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরুর পর এ নিয়ে মোট ১৬ জন কর্মচারীকে বদলি করা হলো।
সর্বশেষ দুটি আদেশের একটিতে সাতজন এবং অন্যটিতে পাঁচজন কর্মচারীকে বদলি করা হয়। বদলিকৃতদের চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকার কেরানীগঞ্জে অবস্থিত পানগাঁও আইসিটি ও কমলাপুর আইসিডিতে একই পদে পদায়ন করা হয়েছে। আদেশে তাদের সোমবার দিনের প্রথম ভাগে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। ‘জরুরি দাপ্তরিক ও অপারেশনাল প্রয়োজনের’ কথা উল্লেখ করে এ বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শনিবারও আন্দোলনে অংশ নেওয়া চার কর্মচারীকে পানগাঁও আইসিটিতে বদলি করে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
এনসিটি ইজারাবিরোধী আন্দোলনকারী সংগঠন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দর শ্রমিকদল নেতা হুমায়ুন কবীর বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। কিন্তু আন্দোলন দমাতে কর্তৃপক্ষ ধারাবাহিকভাবে বদলির মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করছে। অবিলম্বে এসব অন্যায় বদলি আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে।”
অন্যদিকে বন্দর পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক দাবি করেন, নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এ বদলি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর কাছে এনসিটি ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শনিবার থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন বন্দর কর্মচারীরা। রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কর্মবিরতির কারণে বন্দরের কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়ে। বিকাল ৪টার পর অপারেশন স্বাভাবিক হয়।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় এনসিটি ইজারাবিরোধী কর্মবিরতি সোমবারও সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে।





