চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়ার চর ও পানগাঁও নৌ-টার্মিনাল সংক্রান্ত বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পাদিত নন-ডিসক্লোজার (গোপন) কনসেশন চুক্তি অবিলম্বে প্রকাশ, স্বাধীন পর্যালোচনা কমিটি গঠন এবং চুক্তি-পরবর্তী সকল কার্যক্রম স্থগিতের দাবিতে সরকারের কাছে লিখিত চিঠি দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ শিক্ষার্থী।
আজ মঙ্গলবার ডাকযোগে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়সহ সরকারের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে এ চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ (জবি) বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রয়েছেন।
চিঠিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (CPA) ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালস (APM Terminals)-এর সঙ্গে লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য এবং একই দিনে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক Medlog SA-এর সঙ্গে পানগাঁও নৌ-টার্মিনাল পরিচালনার জন্য অস্বাভাবিক দ্রুততায় গোপন কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর করে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়া সত্ত্বেও এসব চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি, যা সংবিধানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থ রক্ষার মৌলিক নীতির পরিপন্থী বলে তারা দাবি করেন।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, প্রাপ্ত তথ্যমতে এসব চুক্তিতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কেবল টার্মিনাল অপারেটর নয়, বরং ৩+৩০+১৫ বছর—মোট ৪৮ বছরের দীর্ঘমেয়াদি কনসেশনিয়ার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া চুক্তি সম্পাদন, দেশীয় প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়া, প্রতি কন্টেইনারে সম্ভাব্য ১৬৭ ডলারের পরিবর্তে মাত্র ২১ ডলার ধার্য করায় রাষ্ট্রীয় রাজস্বে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন ও জনপরামর্শের ঘাটতি এবং মাত্র ১১–১৩ দিনের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত করা—এসব বিষয় গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
প্রেস রিলিজে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, দীর্ঘমেয়াদে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর বিদেশি কনসেশনিয়ারের নিয়ন্ত্রণে গেলে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনে গণহত্যায় জড়িত ইসরাইলে অস্ত্র পরিবহণে অভিযুক্ত আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গোপন কনসেশন চুক্তি বাংলাদেশের সংবিধান, পররাষ্ট্রনীতি ও নৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও উল্লেখ করা হয়।





