তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের এক অফিস সহায়ক (পিয়ন) মো. জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দাখিল করা এক আবেদনপত্রে দাবি করা হয়েছে, চাকরির সুবাদে অনিয়ম ও ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ তিনি তার তিন স্ত্রীর নামে গোপন করেছেন।
ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-জনতা নামক একটি সংগঠনের আহবায়ক মুহম্মদ আরিফুল খবিরের দাখিল করা আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, মো. জহিরুল ইসলাম তিতাস গ্যাসের প্রধান কার্যালয়, কাওরান বাজারে এমএলএসএস (অফিস সহায়ক) হিসেবে কর্মরত। তার বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, কুমিল্লা থেকে তিনটি পৃথক তদন্ত মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় জহিরুল ইসলাম ছাড়াও তার তিন স্ত্রী—মোসা. সেলিনা আক্তার, মোসা. আকলিমা আক্তার ও আসমা আক্তারকে আসামি করা হয়।
দুদকের তদন্তে জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মোট ১ কোটি ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ১৩১ টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া যায় বলে আবেদনপত্রে দাবি করা হয়েছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে দুদক তিনটি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ২ অক্টোবর মামলাগুলো বিচারার্থে কুমিল্লার বিশেষ জজ আদালতে গৃহীত হয়ে স্পেশাল মামলা নং ১৫/২০২২, ১৬/২০২২ ও ১৭/২০২২ হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
আদালত ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০২৪ সালের ৭ জুলাই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মোসা. সেলিনা আক্তারকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১২ লাখ ১২ হাজার ৩০০ টাকা অর্থদণ্ড, মোসা. আকলিমা আক্তারকে ৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩৪ লাখ ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং আসমা আক্তারকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫১ লাখ ৯৯ হাজার ৮৩১ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। তবে তিনটি মামলাতেই মূল আসামি মো. জহিরুল ইসলামকে খালাস দেওয়া হয়।
আবেদনকারীর দাবি, দণ্ডপ্রাপ্ত তিন নারীই খালাসপ্রাপ্ত জহিরুল ইসলামের স্ত্রী এবং যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে অবৈধ সম্পদ দেখানো হয়েছে, সেগুলোর প্রকৃত মালিক জহিরুল ইসলাম নিজেই। দালিলিক কাগজ গোপন করতে তিনি স্ত্রীদের নামে প্রতিষ্ঠানগুলো নিবন্ধন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া আবেদনপত্রে অভিযোগ করা হয়, বিচারিক প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও প্রভাব খাটিয়ে জহিরুল ইসলাম খালাস পান এবং রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তার খালাসের বিরুদ্ধে কোনো আপিল করা হয়নি।
আবেদনকারী আরও জানান, আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি আপিল দায়ের না করে, তাহলে বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে।





