বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা এলাকায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি পুনরায় সচল করার ভারতের সাম্প্রতিক উদ্যোগকে শুধু প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি হিসেবে দেখলে বিষয়টির গভীরতা অনুধাবন করা যায় না। সময়, ভৌগোলিক অবস্থান এবং সমান্তরাল রাজনৈতিক ও সামরিক বক্তব্যগুলো মিলিয়ে দেখলে এটি স্পষ্ট হয়- এটি একটি বৃহত্তর কৌশলগত বার্তার অংশ।
শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেন নেক’ ভারতের জন্য বরাবরই সংবেদনশীল। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগ রক্ষায় এই করিডরের গুরুত্ব নতুন নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দীর্ঘদিনের এই উদ্বেগ হঠাৎ করে কেন দৃশ্যমান সামরিক প্রস্তুতিতে রূপ নিচ্ছে, তাও ঠিক এমন এক সময়ে, যখন বাংলাদেশ নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আধুনিকায়নের পথে হাঁটছে?
লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি পুনর্গঠন এবং আধুনিক ফাইটার জেট, যেমন JF-17C অর্জনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তার সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই অস্বস্তিকেই প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। তার ভাষায়, বাংলাদেশের এই ধরনের সক্ষমতা ভারতের পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘদিনের আকাশপথের একচ্ছত্র প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।
আরও উদ্বেগজনক হলো, এই সক্ষমতা অর্জন ঠেকাতে ‘সতর্ক থাকার’ ইঙ্গিত এবং তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্ভাব্য সামরিক চুক্তি নিয়েও আপত্তির সুর। বার্তাটি পরিষ্কার- ঢাকায় এমন সিদ্ধান্তই গ্রহণযোগ্য, যা দিল্লির অগ্রাধিকারকে অগ্রাহ্য করবে না।
এই প্রেক্ষাপটে সীমান্তে বিমানঘাঁটি পুনরুদ্ধার কেবল নিরাপত্তা জোরদারের বিষয় নয়; এটি এক ধরনের কৌশলগত চাপ। উদ্দেশ্য স্পষ্ট- বাংলাদেশের স্বাধীন প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র সিদ্ধান্তের পরিসর সীমিত রাখা।
প্রশ্নটা তাই বিমানঘাঁটি নিয়ে নয়। প্রশ্নটা সার্বভৌমত্ব নিয়ে। বাংলাদেশ তার নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত নিজেই নেবে- এই অধিকারকে চ্যালেঞ্জ করা হলে তা আবেগ দিয়ে নয়, সচেতন বিশ্লেষণ ও দৃঢ় অবস্থান দিয়েই মোকাবিলা করা জরুরি।





