১৯৭১ থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রকে অনেক সময় একই পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলেও বাস্তবে দুই শক্তির স্বার্থ কখনোই পুরোপুরি এক হয়নি। বরং একাধিক ইস্যুতে ওয়াশিংটন বারবার দিল্লির কৌশলগত পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে- এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই দ্বন্দ্ব স্পষ্ট। ভারত যখন নিজেদের অনুকূলে থাকা সরকার প্রতিষ্ঠা ও ঢাকাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বস্তি বোধ করেছে, তখনই আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ বিশেষ বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এসেছে। দিল্লির আঞ্চলিক কৌশলের সঙ্গে এটি ছিল সরাসরি সাংঘর্ষিক।
একইভাবে, ভারতের পক্ষ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের নকশা তৈরির অভিযোগ উঠলে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে বরাবরই ‘ফেয়ার ইলেকশন’-এর চাপ দিয়েছে। নির্বাচন এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনায় ভারতের কাকুতি-মিনতি সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত সরকারের পতনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ তোলে আওয়ামী লীগ, এবং যার সঙ্গে সেন্ট মার্টিন ইস্যুও যুক্ত করা হয়।
এই দ্বন্দ্ব কেবল বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়। পাকিস্তানে ইমরান খান ক্ষমতায় আসার পর ভারত স্বস্তি পেলেও, তার পতনের পর ইমরান খানের দল সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করে। মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্র যখন কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দেশটিকে চাপে রাখে, ঠিক তখনই ভারত সেখানে সাবমেরিন সরবরাহ করে বিপরীত অবস্থান নেয়।
আফগানিস্তানেও একই চিত্র- তালেবান সরকারকে যুক্তরাষ্ট্র একঘরে করে রাখলেও ভারত সেখানে ভিন্ন কৌশল অনুসরণ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত দক্ষিণ এশিয়ায় একক অধিপতি হতে চাইলেও সেই পথ রুদ্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র সচেতনভাবেই এক ধাপ এগিয়ে থাকে। চীন এখানে গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাদের ভূমিকা মূলত অর্থনৈতিক। যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, তার সঙ্গেই তারা সম্পর্ক গড়ে তোলে। আর রাশিয়া দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের বিকল্প কাউকে দেখতে চায় না। তাদের অবস্থান বরাবরই এককেন্দ্রিক।
দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষমতার খেলায় যুক্তরাষ্ট্র এখন ভারতের সবচেয়ে বড় কৌশলগত ‘পথের কাঁটা’- এমনটাই মনে করছেন ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।





